২ জলদস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণ

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:০৬
 
সুন্দরবনের দুইটি জলদস্যু বাহিনীর ২০ সদস্য অস্ত্রসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। বুধবার দুপুরে র‌্যাব-৮ এর উদ্যোগে পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়ামে ওই জলদস্যুরা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।
 
অত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মানজু বাহিনীর ১১ জন এবং মজিদ বাহিনীর ৯ সদস্য ৩৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৩শ' ২৯ রাউন্ড গোলাবারুদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বিশ্ব ঐতিহ্য আমাদের সুন্দরবনকে পর্যটন ও মৎস্য সম্পদ আহরণের স্বার্থে রক্ষার জন্য জলদস্যু দমন আমরা যে ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রেখেছি তারই অংশ হিসেবে তাদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ। এ পর্যন্ত র‌্যাব যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে তাতে গত ১১ মাসে ১২টি বাহিনীর ১৩২জন জলদস্যু, ২৪৯টি অস্ত্র ও ১২ হাজার ৫শ' ৯২ রাউন্ড গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করে।'
 
IMG0
 
তিনি আরও বলেন, 'আজ (বুধবার) আরও ২০ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে এই সংখ্যা ১৫২তে দাড়িয়েছে। এখনও আরও তিনটি জলদস্যু বাহিনী সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে তাদের তৎপরতা চালাচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। আমাদের অনুরোধ এই বাহিনী গুলো অবিলম্বে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। তা নাহলে তাদের জন্য যে ভয়ঙ্কর ও অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবন রয়েছে তার পরিণাম খুবই খারাপ।'
 
'প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুদের পুনর্বাসন করা হয়েছে' উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, 'অতীতে যারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছে তাদের মধ্যে একজন বাদে বাকিরা জামিনে রয়েছে। একজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থাকায় তাকে আইনগত কারণেই মুক্তি দেয়া সম্ভব নয়।প্রধানমন্ত্রী এক লাখ টাকা, র‌্যাব ২০ হাজার টাকা এবং এক্সিম ব্যাংক আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যু প্রতি যে অনুদান দিয়েছেন তা দিয়ে এরা ইতিমধ্যে আত্মকর্মসংস্থানমূলক পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করেছে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে শুরু করেছে।'
 
জেলা স্টেডিয়ামে র‌্যাব-৮ এর সিও উইং কমান্ডার হাসান ইমন আল রাজির সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এ কে এম এ আউয়াল এমপি, র‌্যাবের মহাপরিচালক মো. বেনজীর আহমেদ, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সেখ, পুলিশ সুপার মো. ওয়ালিদ হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, পৌর মেয়র মো. হাবিবুর রহমান মালেক প্রমুখ।
 
ইত্তেফাক/জামান