কাওরান বাজার কিচেন মার্কেট
রফিকুল ইসলাম রবি
রাজধানীর কাওরান বাজারের ভবনগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। ভবনের দেয়াল ও ছাদের কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে পড়ছে। অনেক বিম ফেটে গেছে। লোহার পাইপ দিয়ে তা ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। পুরো বাজারের কোথাও নেই অগ্নি নিরাপত্তার ব্যবস্থা। প্রতিবছরই কাওরান বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং ক্ষয়ক্ষতিও হয়। তবুও ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাওরান বাজার মার্কেটের ভবনটি যেমন পুরাতন, তেমন ভঙ্গুর অবস্থা। এখানে আগুন নেভানোর জন্য তাত্ক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেই। এতোটাই ঘিঞ্জি জায়গা যে, আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসও ঠিকমতো কাজ করতে পারবে না। অথচ এ নিয়ে মার্কেট সমিতির পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই এখানে ব্যবসা করতে হয় তাদের।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মালিকানাধীন কাওরান বাজারের ভবনগুলো খোদ সিটি করপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের তালিকায় রয়েছে। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ২০১৭ সালে কাওরান বাজার আড়ত্ ভবন, কাওরান বাজার ১নং আড়ত্ ভবন, কাওরান বাজার কাঁচা কিচেন মার্কেট, কাওরান বাজার আড়ত্ ভবন ২ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে কাঁচাবাজার মহাখালী ও যাত্রবাড়ীতে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেন। এ জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেন তিনি। ব্যবসায়ীরাও মেয়রকে সম্মতি দেন। সেই সিদ্ধান্তের আর অগ্রগতি নেই। তবে বর্তমান কর্তৃপক্ষ বলছে, কাওরান বাজার স্থানান্তর নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কাজ চলছে।
অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিকাণ্ডের অতিঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের তালিকায় রয়েছে কাওরান বাজারের ভবনগুলো। মার্কেটের কোথাও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, পানি ও ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় বেরিয়ে যাওয়ার বিকল্প পথ নেই। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে আসেন। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে অনেক প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত শুক্রবার কাওরান বাজারের কাব্যকস হার্ডওয়্যার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর আগে চলতি বছরের ৩ মার্চ কাওরান বাজারের একটি গোডাউনে আগুন লাগে। এছাড়া গত বছর কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে অথচ এ নিয়ে উদাসীন ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি দরে পণ্য নিতে আসা ব্যবসায়ীদের এই সিটি করপোরেশন মার্কেটেই ঢুঁ মারতে হয়। এছাড়া প্রতিদিন হাজার হাজার খুচরা ক্রেতা সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে আসেন। অথচ এত জনবহুল একটি বাজারের মধ্যে কোনো অগ্নি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। ২০০৯ সালে কাওরান বাজার কিচেন মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে ঘোষণা করেন তত্কালীন ঢাকা সিটি করপোরেশন। এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির করপোরেশন সভায় কিচেন মার্কেটটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এর মধ্যে এখনো ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের প্রবেশ ফটকে দোকান বসানো হয়েছে। ভেতরে ন্যূনতম জায়গা নেই। এমনভাবে দোকান বসানো হয়েছে যে, সরু গলি দিয়ে হাঁটতে গেলে একজনের সাথে আরেকজনের ধাক্কা লাগে। পরিবেশটা একেবারেই ঘিঞ্জি।
আসলাম হোসেন নামক এক ব্যবসায়ী বলেন, কাওরান বাজার পুরো ভবনের অবস্থা খারাপ। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। কারণ বাজারের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে মানুষ হাঁটতে পারে না। ফলে সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় এখানে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপ-সচিব) আব্দুল হামিদ বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলো নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কাজ চলছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। কাওরান বাজারের স্থানান্তরের মূল প্রতিবন্ধক ব্যবসায়ীরা। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক চেষ্টা করেছিলেন। তেজগাঁও ট্র্যাক স্ট্যান্ড সরিয়ে দিতে পারলেও কাওরান বাজার স্থানান্তর করতে পারেননি। আমরা ব্যবসায়ীদের সাথে বেশ কয়েকবার মিটিং করেছি। আমরা আশাবাদী, কাওরান বাজার স্থানান্তর করতে পারবো।
