নন্দীগ্রামে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার রেজাউল করিমকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিল্লুর রহমানকে (৩৮) দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি জিল্লুর রহমান স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করে। আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নন্দীগ্রাম থানার (উপ-পরির্দশক) আব্দুস শুকুর আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। বিজ্ঞ আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি জিল্লুর রহমান নন্দীগ্রাম উপজেলায় সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করতো। সে সময় রেজাউল করিমের সাথে পারিচয় হয়। এ সুবাদে রেজাউলের পরিচিত এক মেয়েকে বিআরডিবিতে চাকুরি দেয়ার নামে সাড়ে ছয় লাখ টাকা গ্রহণ করে জিল্লুর।
চাকুরি দিতে না পারায় রেজাউল করিম জিল্লুর রহমানকে ওই টাকা ফেরৎ দেয়ার জন্য চাপ দেয়। এতে আসামি জিল্লুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে জিল্লুর পরিকল্পিতভাবে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা বলে কৌশলে রেজাউল’কে ডেকে নেয়। তারপর ভাড়াটিয়া খুনিদের সহযোগিতায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে। তারপর মৃতদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় রেজাউলের বড় ভাই বগুড়া সদরের বামনপাড়া গ্রামের জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে জিল্লুর রহমানকে প্রধান আসামি করে নন্দীগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নন্দীগ্রাম উপজেলা বিআরডিবি অফিসের মাঠকর্মী রুহুল আমিন, জিল্লুরে স্ত্রী মাহাবুবা খাতুন ও মেহেদী হাসান লিটন, নুর হোসেন রণিকে গ্রেফতার করে।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চত করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
