আমলাভাঙা খাল পারাপারে ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো!

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪০

আমলাভাঙা খাল। একপাড়ে দক্ষিণ কাজির হাওলা, অন্যপাড়ে কাছিয়াবুনিয়া গ্রাম। দুই গ্রামের প্রায় তিন হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ৩৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো। সেটিও এখন নড়বড়ে। তাতে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। প্রতিদিন অন্তত এক হাজার মানুষ এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। এরমধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। ওই দুই গ্রামের অবস্থান পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নে।

স্থানীয়রা জানায়, গ্রামবাসীর অর্থায়নে ২০১৪ সালে দক্ষিণ কাজির হাওলা ও কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া আমলাভাঙা খালের ওপর এ বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় ৩৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকোটি নির্মাণের পর একাধিবার মেরামত করা হলেও বর্তমানে সেই সাঁকোটি নড়বড়ে অবস্থা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি দিয়ে চলাচল করছে। তারা ওই সাঁকোটি পেড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করে।    

দক্ষিণ কাজির হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ইমরান হোসেন বলে, ‘মোগো বাড়ি ওপাড় (কাছিয়াবুনিয়া)। হাক্কা (সাঁকো) দিয়া স্কুলে যাইতে আইতে ভয়ে আত-পাও থর থরাইয়া কাঁপে। মনে অয় বুজি, এহনি পানিতে পইরা যামু।’ রাঙ্গাবালী হামিদিয়া মহিলা মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী জায়েদা বলে, ‘আমার বাড়ি দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামে। ঝুঁকির মধ্যে এই সাঁকোটি দিয়ে আসা-যাওয়া করছি। আমাদের কথা চিন্তা করে এখানে একটি সেতু নির্মাণের জোড়ালো দাবি জানাচ্ছি।’      

কাজির হাওলা ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার প্রাণের দাবি এই বাঁশের সাঁকোটির পরিবর্তে ব্রিজ নির্মাণ করা হলে ওই এলাকার জন সাধারণ বড় দুর্ভোগ হতে পরিত্রাণ পাবে। রাঙ্গাবালী ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী একটি সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ ওই স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’