নওগাঁর মহাদেবপুরের হর্ষি গ্রামে শুক্রবার সকালে পুলিশকে মারপিটে করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আসামির পরিবার ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মারপিটে আহত এএসআই শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য নীলমুনি ঘোষ ও গ্রাম পুলিশসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শরিফুল ইসলামসহ তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা ও আসামিসহ ৫জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন-আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ (৪০), ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আব্দুল গফুরের ছেলে ফারুক হোসেনের (৩৫), মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে রেজাউল করিম বুলু (৪৫) ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম (৩৫) এবং ফারুকের স্ত্রী ফারজানা জান্নাত (৩০)।
থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হর্ষি গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে ফারুক হোসেনের (৩৫) বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলায় ওয়ারেন্ট জারি হয়। সেই ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে এএসআই শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য নীলমুনি ঘোষ ও গ্রাম পুলিশসহ চারজন সকাল ৯টার দিকে ফারুককে তার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন।
এ সময় ফারুকের পরিবারের লোকজন, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদসহ ১০-১২জন নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা চালায়। এ সময় হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় ফারুককে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। সংবাদ পেয়ে পুলিশের একাধিক দল হর্ষি ও পাতনা গ্রাম ঘিরে ফেলে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় প্রায় ৪ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ফারুককে গ্রেফতার করে। হামলায় আহত এএসআই শরিফুল ইসলাম ও পুলিশ সদস্য নীলমুনি ঘোষসহ তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এএসআই শরিফুল ইসলাম জানান, ফারুককে গ্রেফতারের পর নিয়ে আসার সময় তার পরিবারের লোকজন, স্থানীয় ১০-১২জন নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে লাঠি ও রড দিয়ে ব্যাপক মারপিট করে। পরে তারা হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় ফারুককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
মহাদেবপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। পুলিশ সুপার (মহাদেবপুর সার্কেল) আবু-ছালেহ আশরাফুল আলম জানান, তদন্ত করে আরো যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
