২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডর। যাতে পিরোজপুরের কাউখালীসহ গোটা উপকূলের মানুষ সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিল। আজও ওইসব অঞ্চলের মানুষ সেই তাণ্ডবের কথা ভুলতে পারেনি।
কাউখালীসহ উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে প্রলয়ঙ্করী সাইক্লোনখ্যাত সিডরের ভয়াবহতার স্মৃতি মানুষ আজও বয়ে বেড়াচ্ছে। আর বেঁচে যাওয়া সর্বস্ব হারানো মানুষের অনেকেই এখনও স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে পারেনি। সেই ভয়াবহতার দশ বছরে সিডরের ক্ষতি এখানকার মানুষ কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারলেও ভয়াবহতার কথা আজও ভুলতে পারেনি।
মুহূর্তের ধ্বংসলীলায় বিধ্বস্ত হয় মানুষের বসতবাড়ি, ফসলের খেত, বাড়ির উঠান, ঘরের চালা আর পথে-প্রান্তরে পড়ে থাকে ৯ জনের লাশ।উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ব্রিজ-কালভাট প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে আজও মেরামত হয়নি। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে উপকূলের জেলা পিরোজপুরে মানবসম্পদের পর সবচেয়ে বড় ধরণের ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল ফলজ ও বনজ বৃক্ষ সম্পদের। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে সে সময় অসংখ্য বনজ ও ঔষধি বৃক্ষসহ প্রায় কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের হাজার হাজার বাগান পরিণত হয়েছিল বিরানভূমিতে। গত দশ বছরেও সে ক্ষত পূরণ করতে পারেনি এ উপজেলার বৃক্ষপ্রেমী মানুষজন। উপজেলা হাসপাতালের ক্ষতিগ্রস্ত ডায়রিয়া ওয়ার্ডটি সেই রকম পড়ে আছে।
তবে প্রতিবছর এ সময়টায় সিডরের কথা মনে করে তারা আঁতকে ওঠেন। ব্যাপক সম্পদ এবং স্বজন হারানোর ব্যথায় কেঁদে বুক ভাসান। এ দিকে সিডর দিবসে মসজিদগুলোতে এবং বাড়িবাড়ি দোয়া মোনাজাতের মধ্যদিয়ে এবারের সিডরকে স্মরণ করবার প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড় সিডরের দশ বছর পূর্তিতে পিরোজপুরের কাউখালীতে বুধবার থেকে দুই দিনব্যাপী ঘূর্ণিঝড় সিডরের তথ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। কাউখালী তথ্যকেন্দ্র ও সংগ্রহশালার উদ্যোগে কাউখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ প্রদর্শনী চলছে। এতে ঘূর্ণিঝড় সিডরে বিধ্বস্ত উপকূলের চিত্র ও সিডর নিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রদর্শিত হবে।
ইত্তেফাক/জামান
