রাস মেলার সময় হরিণ শিকারের অভিযোগ

আটক ৫৭ জনকে আদালতে প্রেরণ ২২ জনকে জরিমানা

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৫

এইচ এম দুলাল, মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

সুন্দরবনে এবার রাস মেলাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক কড়াকড়ির মধ্যেও সংঘবদ্ধ হরিণ শিকারি চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। অভিযোগ উঠেছে, রাস মেলাকে কেন্দ্র করে বেপরোয়াভাবে হরিণ নিধনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে হরিণের মাংস, হরিণ ধরার ফাঁদ, সরঞ্জাম ও নৌকাসহ বন বিভাগ ৫৭ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের বন আইনে মামলাও দেওয়া হয়েছে। এ সময় হরিণের মাথা, চামড়াসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে বন বিভাগের সদস্যরা। এ ছাড়া ২২ জনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে সুন্দরবনের দুবলার চরে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী রাস উত্সব। এ মেলাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থী ও পর্যটকরা আগমন করে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির চোরাশিকারি হরিণ শিকারে মেতে ওঠে। বিভিন্ন কাঁকড়া ধরার নৌকায় করে জেলে নামধারী হরিণ শিকারিরা রাস উত্সবের আগেই বনের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে ব্যাপকহারে হরিণ শিকার করে মজুদ করে রাখে। পরে রাস উত্সবে যাওয়ার পথে পর্যটক ও তীর্থ যাত্রীদের কাছে তা মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করে।

রাস উত্সব থেকে ফিরে আসা কয়েকজন তীর্থ যাত্রী ও পর্যটক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পূর্ব সুন্দরবনের হারবাড়িয়া টহল ফাঁড়ির পর ও দুবলা এলাকার বিভিন্ন ছোট ছোট খালের ভিতরে কাঁকড়া ধরার নৌকায় শিকার করা হরিণের মাংস বিক্রি করেছে।

সুন্দরবনে টহলরত স্মার্ট পেট্রোল টিম-১ এর প্রধান ও কাশিয়াবাদ স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ টিটো বলেন, রাস মেলা উপলক্ষে চোরা শিকারিদের ঠেকাতে বন বিভাগ টহল জোরদার করে। বৃহস্পতিবার রাতে দর্শনার্থী বোঝাই দুটি ট্রলার সুন্দরবনের পাটকোস্টা মোরগখালী এলাকায় ঘুরছিল। এ সময় স্মার্ট টহল টিম তাদের থামতে বলে তল্লাশি চালালে ট্রলার থেকে হরিণের মাথা, চামড়াসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র দেখতে পায়। এসময় ট্রলার দুটিতে ৫৭ জন ছিল। তারা সকলেই রাস মেলার উদ্দেশ্যে খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসে। ট্রলার দুটি থেকে হরিণ শিকারের ৫০ মিটার ফাঁদ, হাড়, দা, কুড়াল উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, তাদেরকে আটক করে শুক্রবার সন্ধ্যায় কয়রা উপজেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, হরিণ শিকারিদের দৌরাত্ম্য রোধ করতে এবার পূর্ব বন বিভাগসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রচুর লোক কঠোর নজরদারি করেছে। এর মধ্যে তার এলাকায় (পাথরঘাটা) কিছু মাংস কোস্টগার্ড উদ্ধার করলেও পাচারকারীরা নৌকা ফেলে পালিয়ে যায়। এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

অপরদিকে পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্ত (ডিএফও) বশির আল মামুন জানান, রাস মেলায় যাওয়ার যে নির্ধারিত রুটগুলো ছিল চোরা শিকারির দল সে রুট ব্যবহার না করে অন্য রুট ব্যবহার করে হরিণ শিকার করেছে। নির্ধারিত রুটে প্রশাসনের যে নজরদারি ছিল তার চোখ ফাঁকি দিয়ে এত বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো জানান, এখনো কিছু নৌকা বনের অভ্যন্তরে হরিণ নিধনের আশায় লুকিয়ে রয়েছে। এগুলোকে আটক করতে বন বিভাগ ও প্রশাসন কঠোর নজরদারি করছে।