৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে কামরাঙ্গীরচরের গৃহবধূ লিপি আক্তার (২৫) মৃত্যুর কাছে হার মানলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ৮ নভেম্বর রাতে কামরাঙ্গীরচরের চেয়ারম্যান বাড়ির ২ নম্বর রোডের দোতালা বাড়িতে তার স্বামী শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর দগ্ধ লিপি আক্তারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, কামরাঙ্গীরচরের আলীনগরে ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে স্বামীর সঙ্গে থাকেন লিপি। ৯ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। নিশান (৮) ও তাসফিয়া (৪) নামে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। জাহাঙ্গীর নিউমার্কেট এলাকায় ফল বিক্রি করতেন। এক বছর আগে তিনি ব্যবসা ছেড়ে জুয়া খেলতে শুরু করেন। এ নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হতো। জুয়ার টাকা মেটাতে প্রায়ই লিপির কাছে যৌতুক দাবি করতেন। সর্বশেষ লিপি তার ফুফুর কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা এনে দেন।
লিপির মা হাজেরা বেগম অভিযোগ করেন, ৮ নভেম্বর রাতে জাহাঙ্গীর ১০ হাজার টাকা দাবি করে। আগের দেয়া ৮ হাজার টাকার হিসাব চান লিপি। ওই টাকা জাহাঙ্গীর জুয়া খেলে শেষ করে ফেলে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে জাহাঙ্গীর রান্নাঘর থেকে কেরোসিন এনে লিপির শরীরে ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি শাহীন ফকির বলেন, ঘটনার পর লিপির মা হাজেরা বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে ১ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর যৌতুক দাবির কথা স্বীকার করেছেন।
ইত্তেফাক/ইউবি
