জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতার প্রয়াণ

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:০১

 

মা হ মু দু ল  আ মি ন

 

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদের জন্ম ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও এলাকায়। পুরো নাম আবদুস সামাদ। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা তার বড় ভাই বিখ্যাত চারুশিল্পী আব্দুল হাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। সংগীতেও রয়েছে এই গুণী অভিনেতার পারদর্শিতা। ‘মনা পাগলা’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি। ১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ দিয়ে তার চলচ্চিত্রে পা রাখা। তবে তিনি দর্শকদের কাছে যে ছবিটির মাধ্যমে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পান সেটি হলো ‘পায়ে চলার পথ’। এরপর অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের বাইরে ৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে তিনি গানও গেয়েছেন। বিটিভির ক্যামেরাম্যান মোস্তফা মামুন আবদুস সামাদ বাদ দিয়ে টেলিসামাদ নামটা দিয়েছিলেন। সেই থেকেই তাকে সবাই টেলি সামাদ নামেই চেনে। চার দশকে ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এ অভিনেতা। টেলি সামাদ একসময় বাংলা চলচ্চিত্রে রবিউল, খান জয়নুল, আশীষ কুমার লৌহ, আনিস, লালু, হাসমতের মতো গুণী কৌতুক অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। এ অভিনেতা দক্ষ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার পুরস্কৃত হয়েছেন। তবে তার আক্ষেপ ছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে কৌতুক অভিনেতার ক্যাটাগরি বাদ দেওয়া নিয়ে। টেলি সামাদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘নয়ন মণি’, ‘মাটির ঘর’, ‘দিলদার আলী’, ‘অশিক্ষিত’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘মধুমিতা’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘নদের চাঁদ’, ‘মাটির ঘর’, ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘নওজোয়ান’, ‘ভাত দে’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘সোহাগ’, ‘পৃথিবী’, ‘কথা দিলাম’, ‘শেষ উত্তর’, ‘হারানো মানিক’, ‘চন্দ্রলেখা’, ‘লাভ ইন সিঙ্গাপুর’, ‘গোলাপী’ এখন ট্রেনে’, ‘মনা পাগলা’, ‘সুজন সখী’, ‘লাইলী মজনু’ ইত্যাদি। বলা যায়, তার অভিনীত প্রতিটি সিনেমাই ছিল ব্যবসা সফল। ২০১৫ সালে তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি মুক্তি পায় ‘জিরো ডিগ্রী’। অসংখ্য চলচ্চিত্র-নাটকে নানা ধরনের চরিত্রে তার দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে দারুণভাবে। নিজের অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শকদের বিনোদন ও হাসিতে সারাক্ষণ মাতিয়ে রাখতেন টেলি সামাদ। একসময় কমেডিয়ান বললেই চলে আসত তার নাম। সমানতালে অভিনয় করেছেন সিনেমায় টেলিভিশনে। পেয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। সবাইকে হাসিয়েছেন যিনি, জীবন সায়াহ্নে এসে সেই কৌতুক সম্রাটের মুখ থেকে হাসি নিভে গিয়েছিল। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে টেলিসামাদ বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। যে কারণে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বিএফডিসিতেও যাওয়া-আসা করতে পারতেন না বলে তার মনে অনেক কষ্ট ছিল। তবে টেলিসামাদ সবসময়ই চলচ্চিত্রকে নিজের পরিবারের মতোই মনে করতেন। তিনি দুই স্ত্রী রেখা সামাদ, নিগার সুলতানা, চার সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ে সোহেলা সামাদ কাকলী, সায়মা সামাদ এবং দুই ছেলে সুমন ও দিগন্ত সামাদকে রেখে গেছেন। সদ্য প্রয়াত এই গুণী অভিনেতার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমেছে।