খাগড়াছড়িতে পার্বত্য শান্তি চুক্তিবিরোধী আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর ডাকা সকাল সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর হয়েছে। পিকেটারদের হামলায় দুজন আহত হয়েছে। যানবাহনে হামলার ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ ৮জন পিকেটারকে আটক করেছে।
গত বুধবার সংগঠনটি ভেঙ্গে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামে আরেকটি নতুন দল গঠনের প্রতিবাদে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ খাগড়াছড়িতে বৃহষ্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। অবরোধকারীরা জেলার বিভিন্ন সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করে।
বুধবার রাতে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা শান্তি পরিবহনের তিনটি নৈশকোচে হামলা চালায় অবরোধকারীরা। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে গুইমারার বাইল্যছড়িতে ইউপিডিএফ’র পিকেটারা শান্তি পরিবহনের একটি এসি নৈশকোচে হামলা চালায়।
একইভাবে রামগড়ের যৌথ খামার ও এগার মাইল নামক স্থানে দুটি চেয়ার কোচ এবং গুইমারার বুদংপাড়ায় একটি পিকআপ গাড়িতে হামলা চালায় পিকেটাররা। বুদংপাড়ায় পিকআপে হামলার ঘটনায় চালক সিদ্দিকুল ইসলাম(৩০) আহত হন। জানা যায়, পিকেটাররা সড়কের পাশের বনজঙ্গলে অবস্থান নিয়ে চোরাগুপ্তা হামলা চালায় গাড়িগুলোর ওপর।
রামগড় থানার অফিসার ইনচাজ(ওসি) মো: শরীফুল ইসলাম বলেন, ভোরবেলায় রামগড় জালিয়াপাড়া সড়কের যৌথ খমার এলাকায় পাশের জঙ্গল থেকে তারা একটি নৈশকোচে ইটপাটকেল ছুঁড়ে গ্লাস ভেঙে দেয়। তাৎক্ষণিক পুলিশি এ্যাকশনে তারা জঙ্গলের ভিতরে পালিয়ে যায়।
সন্ধ্যায় গুইমারার বাইল্যাছড়ি এলাকায় টহল পুলিশের একটি জিপ গাড়ির ওপর হামলা চালায় অবরোধকারীরা। এ হামলায় গাড়ির চালক বাবুল হোসেন আহত হন। ঐ এলাকায় আরএফএল এর একটি পিকআপ ভ্যান, মাইক্রো বাস ও সিএনজি চালিত অটো রিকশায় হামলা চালানো হয়। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ৪ পিকেটারকে আটক করে। এরা হচ্ছে, মংলাপ্রু মারমা, নিরোশ কিশোর ত্রিপুরা(২৬), রুইসা অং মারমা(১৮) ও অনু চাকমা(২০)। এরা বাইল্যাছড়ির বাসিন্দা।
অন্যদিকে, মুসলিমপাড়া এলাকায় সিএনজি অটোরিকশাসহ দুটি গাড়ি ভাংচুর করে ইউপিডিএফের কমীরা। সেনাবাহিনী এখানে যানবাহনে হামলার সাথে জড়িত ৪ জনকে আটক করে। এরা হচ্ছে, চলন্ত বিকাশ ত্রিপুরা(২৩), রিপন ত্রিপুরা(১৯), দীপ্ত মোহন ত্রিপুরা(১৯) ও উজ্জ্বল ত্রিপুরা(২০)।
গুইমারা থানার অফিসার ইনচাজ(ওসি) মো: শাহাদাৎ হোসেন টিটু বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে ভাংচুর ও নাশকতা সৃষ্টির দায়ে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ কমসূচিকে ঘিরে জেলার সবত্র আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মোতোয়েন ছিল। প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিজিবি, পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তাবাহিনীর টহল ছিল।
পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্যতম বৃহৎ আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’র (ইউপিডিএফ) প্রধান প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সংগঠনের ভিন্নমত পোষণকারীদের হত্যা, চাঁদাবাজি, গুম, খুন, অপহরণ, জাতীয় দিবস বর্জনসহ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দূর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ এনে গত বুধবার খাগড়াছড়িতে সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা ও জলেয়া চাকমা তরু’র নেতৃত্বে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামে আলাদা সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। নতুন গঠিত ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক সংগঠনটিকে রাষ্ট্রীয় মদদে নব্য মুখোশ-বোরকা বাহিনী আখ্যায়িত করে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ। সরকারের সাথে জনসংহতি সমিতির সম্পাদিত শান্তি চুক্তি এবং অস্ত্র সমর্পনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির(জেএসএস) প্রতিপক্ষ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবীতে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করে সংগঠনটি।
ইত্তেফাক/নূহু
