রবিউল ইসলাম জীবন তরুণ প্রজন্মের একজন জনপ্রিয় গীতিকার। গত এক যুগে তাঁর লেখা প্রায় ৭০০ গান প্রকাশিত হয়েছে। অডিও-ভিডিও, চলচ্চিত্র, নাটক কিংবা থিম সং সবখানেই রয়েছে তার সাফল্য। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন অজেয় চৌধুরী
চলতি বছরে আপনার লেখা প্রকাশিত গান নিয়ে বলুন।
লেখক হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক ভালো লাগার একটি বিষয়। গানগুলোর কথা গত তিন-চার বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে লেখা। গানগুলো হলো ‘মেঘেরই খামে’ (ইমরান ও আনিসা), ‘যদি একদিন’ (ইমরান ও আনিসা), ‘তোর নামের ইচ্ছেরা’ (ইমরান), ‘কিছু কথা’ (ইমরান ও বৃষ্টি), ‘বাংলাদেশ’ (সালমা), ‘জেনে গেছি’ (সাঈদা তানি), ‘যদি’ (মাহতিম শাকিব), ‘বর্ষাবরণ’ (ন্যান্সি ও কাজল আরিফ), ‘গ্রহণ’ (ন্যান্সি ও ইভান শেখ), ‘এত কাছে এসেছি’ (ইবরার টিপু ও বিন্দু কনা), ‘এমন মানুষ’ (তানজীব সারোয়ার), ‘শেষ চিরটুক’ (মো. শোয়েব), ‘তোর মনে মন’ (নিপু) এবং বাংলাদেশ স্কাউট থিম সং (এস আই টুটুল)।
বৈশাখে কী কী গান আসছে?
পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উত্সব। এই উত্সবকে সামনে রেখে নিজের লেখা গান প্রকাশিত হলো ভালো লাগে। এবার পহেলা বৈশাখে আমার লেখা যে গানগুলোর প্রকাশ হতে পারে তাঁর মধ্যে রয়েছে ইমরান ও পড়শীর ‘আবদার’, মাহমিত শাকিবের ‘একলা হলেই বুঝতে পারি’। এছাড়া তিনটি নাটকে একটি করে গান থাকবে তামিম মৃধা, শাওন গানওয়ালা, ফরহাদ প্রমুখের কণ্ঠে।
আপনার লেখা প্রায় ৭০০ গান প্রকাশ পেয়েছে। এরমধ্যে অনেক গানই পেয়েছে শ্রোতাপ্রিয়তা। কেমন এনজয় করেন?
আমার গান আমাকে ভালো রাখে। এটা আমার ভালো থাকার, বেঁচে থাকার জায়গা। আমি মনে করি একজন গীতিকবির লেখা শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর অনুভূতিই তাঁর কাছে শ্রেষ্ঠ। ভালো লেখার সঙ্গে উপযুক্ত সুর-সংগীতায়োজন ও যথাযথ গায়কী থাকলেই সেই গান শ্রোতারা পছন্দ করেন।
গান লেখার পাশাপাশি আপনি একটি জাতীয় দৈনিকের সাব-এডিটর। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাগলা সমর্থক। ক্রিকেট দলকে নিয়ে আপনার লেখা গানের কথা বলুন।
ছোটবেলায় ইচ্ছা ছিল ক্রিকেটার হওয়ার। কিন্তু পারিনি। এখন মাঠে গিয়ে সমর্থন দিয়ে, গান লিখে ক্রিকেটের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করি। বলা যায়, আমার হূদয়ের একপাশে মিউজিক একপাশে ক্রিকেট—এ দুটিই আমার ভালো লাগার, ভালো থাকার জায়গা। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আমি অনেক ভালোবাসি। ক্রিকেট নিয়ে আমার লেখা কয়েকটি গান হলো ‘জ্বলে ওঠো বাংলাদেশ, ‘জয় হবেই হবে’, ‘মাশরাফি’, ‘অপরাজেয়’ (সাকিব আল হাসান), ‘কোটি প্রাণের আশা’, ‘পে ফর দ্য গেম’, ‘চলে এসো’ প্রভৃতি। এবারের বিশ্বকাপ উপলক্ষেও একাধিক গান আসবে।
শুনেছি এবার বিশ্বকাপ দেখতে ইংল্যান্ডে যাওয়ার কথা ভাবছেন?
চেষ্টা করব। যদি ভিসা পাই। ছোটবেলা থেকে আমার স্বপ্ন লর্ডসে বাংলাদেশের খেলা দেখা।
শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে এ পর্যন্ত কী কী পুরস্কার পেয়েছেন? লেখার ক্ষেত্রে পুরস্কার কতটা উত্সাহ জোগায়?
শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে ২০১০, ২০১১ ও ২০১৬ এই তিনবার চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। এছাড়া সাঁকো টেলিফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, মিজাব অ্যাওয়ার্ড, বাংলাদেশ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডসহ আরো কিছু সম্মাননা রয়েছে। একটা ভালো কাজের জন্য আপনি যখন স্বীকৃতি পাবেন, তখন আরো বেশি ভালো কাজ করার তাগিদ অনুভব করবেন। আমি মনে করি এসব পুরস্কার আমার কাঁধে বাড়তি দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। আরো ভালো লেখার মাধ্যমে আমাকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
