পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন শনিবার দূতাবাস প্রাঙ্গণে ‘শান্তি ও উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টা: জাতীয় অর্জন এবং বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহসান অনুষ্ঠানে আলোচ্য বিষয়ের উপর এক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
ইসলামাবাদের নেতৃস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইন্সটিটিউট (এসডিপিআই) এর নির্বাহী পরিচালক ড. আবিদ কাইউম সুলেরি ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার শফিউর রহমান প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
হাইকমিশনার তারিক আহসান তার উপস্থাপনায় সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন যে, শান্তি ও উন্নয়নের আদর্শ বাংলাদেশের জাতীয় দর্শনের মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার শান্তির স্বপক্ষে অবস্থান, নীতি ও কার্যক্রমের জন্য ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদন ও বাস্তবায়ন, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ‘কালচার অব পিস’ প্রস্তাব স্পন্সরকরণ, নিরস্ত্রীকরণ কূটনীতিতে ইতিবাচক সক্রিয় ভূমিকা পালন, সন্ত্রাস বিষয়ে ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি অবলম্বন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমুদ্র ও স্থল সীমানা নির্ধারণ, বিশ্ব শান্তিরক্ষা মিশনে নেতৃস্থানীয় দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
IMG0
জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশসমূহের জন্য একটি মডেল হিসেবে আখ্যায়িতকরণের কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার জলবায়ু ও অভিবাসন সংক্রান্ত কার্যক্রম, এলডিসি লিডারশীপসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়ন কূটনীতির উপর বাংলাদেশের বিশেষ নজর দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এসডিপিআই এর নির্বাহী পরিচালক তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের জিডিপি, জাতীয় রফতানি আয়, জনগণের মাথাপিছু আয়, শিক্ষার হার, গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভাবনীয় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, উন্নয়ন এবং শান্তি একটি অপরের পরিপূরক। তিনি রফতানি আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে রফতানি খাতে বহুমুখিতার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
IMG1
অলোচনা সভার প্রশ্নোত্তর পর্বে হাইকমিশনার ও আলোচকবৃন্দ প্রশ্নকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশি ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাকিস্তানি নাগরিক উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/সেতু
