চার্লস ডারউইন হরমোন প্রথম আবিষ্কার করেন

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:৫০

বিজ্ঞান

মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন

সিনিয়র শিক্ষক

দুলালপুর এস.এম.এন্ড কে উচ্চ বিদ্যালয়

কুমিল্লা।

 

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদে জন্য অধ্যায়ভিত্তিক রচনামূলক (সৃজনশীল) প্রশ্নোত্তর দেয়া হচ্ছে। আজ পঞ্চম অধ্যায় অর্থাত্ “সমন্বয় ও নি:সরণ” থেকে সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন ও তার উত্তর তুলে ধরা হলো।

নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করো ও প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

ক. হরমোন কী?

খ. উদ্ভিদে অক্সিনের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

গ. মানুষের গুরু মস্তিষ্কে উপরের কোষটির অবস্থান ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মানবদেহে উদ্দীপনা পরিবহনে উপরের কোষের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

উত্তর: ক. হরমোন: যে রাসায়নিক বস্তু কোনো কোষে উত্পন্ন হয়ে উত্পত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে হরমোন বলে।

খ.  উদ্ভিদে অক্সিনের ভূমিকা:  অক্সিন উদ্ভিদের বৃদ্ধি সহায়ক হরমোন। চার্লস ডারউইন এ হরমোন প্রথম আবিষ্কার করেন। তিনি উদ্ভিদের ভ্রুণমুকুলাবরণীর উপর আলোর প্রভাব লক্ষ্য করেন। যখন আলো তীর্যকভাবে একদিকে লাগে তখন ভ্রুণমুকুলাবরণী আলোর উেসর দিকে বক্র হয়ে বৃদ্ধি লাভ করে। প্রকৃতপক্ষে ভ্রুণমুকুলাবরণীর অগ্রভাগে অবস্থিত রাসায়নিক পদার্থটি ছিল বৃদ্ধি সহায়ক হরমোন। অক্সিন প্রয়োগে শাখা কলমে মূল গজায়, ফলের অকাল ঝরেপড়া রোধ করে। এছাড়া অক্সিন পুষ্পায়নে, টিস্যু কালচার এবং আগাছা দমনেও ভূমিকা রাখে।

গ. উদ্দীপকের কোষটি হলো স্নায়ুকোষ বা নিউরন। এটি মানুষের গুরুমস্তিষ্কে অবস্থিত। স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে। গুরুমস্তিষ্কের ধুসর পদার্থের কয়েকটি স্তরে বিশেষ আকারে স্নায়ুকোষ দেখা যায়। এই স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে। এগুলো বিশেষ বিশেষ কর্মকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে অবস্থিত। সুতরাং বলা যায়, উপরোক্ত স্নায়ুকোষটির গুরুমস্তিষ্কে অবস্থান অনেক বেশি সুসংহত।

ঘ. উদ্দীপকের উপরের কোষটি হলো স্নায়ুকোষ বা নিউরন। উদ্দীপনা পরিবহনে উদ্দীপকের কোষ তথা স্নায়ুকোষ বা নিউরনের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

স্নায়ুকোষ বা নিউরন হলো মানব দেহের দীর্ঘতম কোষ। স্নায়ুকোষ বা নিউরন মানবদেহে উদ্দীপনা পরিবহন ও প্রতিবেদন সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। নিউরন দুইটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা- ক) কোষদেহ এবং খ) প্রলম্বিত অংশ। কোষদেহ থেকে উত্পন্ন শাখা-প্রশাখাকে প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ দুই প্রকার।

যথা- ১) অ্যাক্সন এবং ২) ডেনড্রন।

একটি স্নায়ুকোষের অ্যাক্সন অন্য একটি স্নায়ুকোষের ডেনড্রনের সাথে মিলিত হওয়ার স্থানকে সিন্যাপস বলে। সিন্যাপসের মাধ্যমেই স্নায়ুতাড়না এক স্নায়ুকোষ থেকে অন্য স্নায়ুকোষে পরিবাহিত হয়।

 উদ্দীপনা বহন করা, প্রাণিদেহের ভিতরের ও বাইরের পরিবেশের সাথে সংযোগ রক্ষা করা, প্রাণিদেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে কাজের সমন্বয় সাধন করা, মস্তিষ্কে স্মৃতিধারণ করা, চিন্তা করা ও বিভিন্ন কাজের নির্দেশ দেওয়া ও পরিচালনা করা নিউরনের কাজ।

এছাড়া স্নায়ুকোষ বা নিউরনের মাধ্যমেই গুরুমস্তিষ্কে অবস্থিত দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বৃদ্ধি, বিবেক, পেশি চালনা, ইত্যাদি ক্রিয়াকলাপ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।

সুতরাং মানবদেহে উদ্দীপনা পরিবহনে উদ্দীপকের স্নায়ুকোষ বা নিউরনের গুরুত্ব অপরিসীম।