দিনাজপুরের বিরামপুরে থানা পুলিশের এক কনস্টেবলের সাহসীকতায় সোমবার ভোরে ফেন্সিডিলের একটি বড় চালান আটক সম্ভব হয়েছে। সাহসীকতার জন্য থানার ওসি মোখলেছুর রহমান তাকে দুই হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছেন।
জানা গেছে, সীমান্তের ডাঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে মাছের ড্রামবাহী পিকআপে ফেন্সিডিলের চালান বহনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিরামপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এএসএম হাফিজুর রহমান ও থানার ওসি মোখলেছুর রহমান হাইরোডে টহল দলকে দক্ষিণ রেলগেটে অবস্থান নিতে বলেন। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নীল ড্র্রামবাহী হলুদ রংয়ের পিকআপটি (ঢাকা মেট্রোঃ ১১-৭৮৭০) রেলগেট অতিক্রমকালে পুলিশকে দেখে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এসময় থানার টহল দলের সদস্য কনস্টেবল ফিরোজ আলম (কং/৯৯১) জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেছন থেকে ঐ পিকআপে লাফিয়ে উঠে পড়েন। তখন ফেন্সিডিলবাহী পিকআপের ড্রাইভার এলোমেলো ভাবে গাড়ি চালিয়ে ফিরোজকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে।
এই শ্বাসরুদ্ধকর সময়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এএসএম হাফিজুর রহমান ও থানার ওসি মোখলেছুর রহমান পুলিশ দল নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। তাদের দেখে ফিরোজ চিৎকার করে বলে ওঠে, স্যার আমি পিকআপের উপরে; স্যার এই পিকআপকে আটক করেন। এসময় অবস্থা বেগতিক বুঝে মির্জাপুর মোড়ে পিকআপ থামিয়ে চালক ও সঙ্গীরা দ্রুত সটকে পড়ে। অনুসরণকারী পুলিশ দল কনস্টেবল ফিরোজকে উদ্ধার ও পিকআপটি থানায় নিয়ে আসেন। পরে পিকআপের উপর মাছের ড্রাম থেকে ৫৮৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ধারণা এই চালান রংপুরের মিঠাপুকুর হয়ে ঢাকায় পাচার হতো। আজ সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় বিরামপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এএসএম হাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে থানার ওসি মোখলেছুর রহমান কনস্টেবল ফিরোজ আলমকে তাৎক্ষণিক ভাবে তার এই সাহসীকতার জন্য দুই হাজার টাকা পুরষ্কার প্রদান করেছেন।
ইত্তেফাক/এমআই
