শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তে পাহাড়ি জনপদে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কাসাভা চাষ। কাসাভা স্থানীয়ভাবে 'শিমলা আলু' নামে পরিচিত। ৪-৫ ফুট উঁচু গাছের গোঁড়ায় মাটির নীচে উৎপাদিত এই আবাদে অনেকটাই খরচ কম। পরিত্যক্ত জমি এবং পাহাড়ের ঢালে কাসাভা আবাদ করা হচ্ছে। তাছাড়া বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভালো। এটি আলু জাতীয় খাবারের পুষ্টি চাহিদাও মেটায়। এতে প্রচুর শর্করা রয়েছে। ফলে পাহাড়ের আদিবাসীরা দিন দিন কাসাভা চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় শ্রীবরদী সীমান্ত ইউনিয়ন সিংগাবরুনা ও রাণীশমূল গ্রামের কৃষকদের সাথে। তারা জানান, প্রতি একর জমিতে কাসাভা রোপণ করতে এবং উত্তোলন করতে শ্রমিক খরচ হয় প্রায় ৬ হাজার টাকা। প্রতি একর জমিতে কাসাভা আলুর ফলন পাওয়া যায় ১৫০ থেকে ২০০ মণ। বাজারে প্রতিমণ কাসাভা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৭শ' থেকে সাড়ে ৭শ' টাকা মণ দরে। আর পাইকাররা সরাসরি ক্ষেত থেকে কিনে আনছে ৫শ' ৫০ টাকা মণ দরে। পরে তারা স্থানীয় বাজার থেকে ২০ টাকা কেজি দরে কিনে, ঢাকাসহ অন্য জেলার বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছে। এ হিসাবে কৃষক আয় করছে প্রতি একরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
শিমলা আলু বা কাসাভা কাঁচা খাওয়া যায় এবং সবজি হিসেবে রান্না করেও খাওয়া যায়। এগুলো খুবই পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু। বাজারে এর খুবই চাহিদা। অল্প খরচে কাসাভা চাষ ব্যাপক জনপ্রিয় হচ্ছে। কৃষক সাঈদ মিয়া, রিপন হোসেন, আসকর আলীসহ অনেকে বলেন, 'শিমলা আলু চাষ করতে খরচ কম হয়। তাই আমরা এ আবাদ করি। আর যা টাকা পাই তাই দিয়ে আমাদের সংসার ভালোভাবেই চলে।' খ্রিস্টানপাড়া গ্রামের কৃষক লবকোশ মারাক, দ্রতিন সাংমা জানান, কাসাভা খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি'র, গু-ক্লোজ, চিপস এবং বার্লির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একই গ্রামের আদিবাসী নেত্রী রেনেটা মারাক বলেন, 'সীমান্ত এলাকার পাহাড় ও টিলা এবং শুষ্ক অঞ্চল যেখানে অন্য কোনো ফসল করা যায় না বা পরিত্যক্ত জমিতে কাসাভার চাষ সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।'
IMG0
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমূল হাসান জানান, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাসাভার কোন বিকল্প নেই। আগে এর চাহিদা কম থাকলেও বর্তমানে এর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় কাসাভা আবাদ বেশি হচ্ছে। তবে এটি বছরের যে কোন সময় রোপণ করা যায়। সাধারণত বর্ষার শুরুতে কাসাভার কাটিং লাগানো ভালো। আমাদের দেশে এপ্রিল থেকে মে মাস কাসাভা লাগানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এতে তেমন কোনো সার প্রয়োগ করতে হয় না। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য হেক্টরপ্রতি ১৮০-২০০ কেজি নাইট্রোজেন, ১৫-২২ কেজি ফসফরাস ও ১৪০-১৬০ কেজি পটাসিয়াম প্রয়োগ করলে সর্বাধিক ফলন পাওয়া যায়। কাসাবা চাষে সাধারণত সেচের প্রয়োজন হয় না। দীর্ঘদিন খরা অবস্থা বিরাজ করলে হালকা সেচের ব্যবস্থা করা হলে ফলন বৃদ্ধি পায়। চারা গজানোর পর ৩মাস অন্তর গোঁড়ার আগাছা পরিষ্কার করে গোঁড়ায় মাটি তুলে দিলে ফলন বৃদ্ধি পায়।
ইত্তেফাক/জামান
