ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য আজহারুল হক জানিয়েছেন, সম্প্রতি কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এই হামলার ঘটনার নেপথ্য নায়ক ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। মূলত তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ হিসেবেই নিজাম হাজারী ক্যাডারদের দিয়ে মিডিয়ার সব গাড়িতে হামলা চালায়।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আজহারুল হক এসব কথা বলেন। ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান, জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা, জেলা তাঁতী লীগের উপদেষ্টা কাজী ফারুক প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আজহারুল হক বলেন, সম্প্রতি ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যে হামলার ঘটনা ঘটে, সেটিও ছিল পূর্বপরিকল্পিত। কারণ সেদিন বেছে বেছে ডিবিসি, চ্যানেল আই, একাত্তর, বৈশাখী টেলিভিশন ছাড়াও প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ পুরো ঘটনার ‘নেপথ্য’ নায়ক নিজাম হাজারী। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত সংবাদ এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলার আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল হক সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিরুদ্ধে খুন, দুর্নীতি, বিদেশে অর্থপাচার, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও হামলার অভিযোগ করে বলেন, নিজাম হাজারীর ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রোষানলের কারণে তিনিসহ এলাকার অনেক নেতা কর্মী এখন এলাকা ছাড়া।
আজহারুল হক অভিযোগ করেন, নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা ছিল। সেই মামলায় তিনি নির্দিষ্ট মেয়াদের কম সময় সাজা খাটেন। এ ঘটনায় একটি রিট করেন জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন। এলাকায় আজহারুলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাখাওয়াত। রিট করার কারণে এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনসহ বিভিন্ন ধারায় অন্তত নয়টি মামলা করেছেন।
আজহারুল হক বলেন, নিজাম উদ্দিন সরকারি অফিস থেকে কমিশন ও বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে টোল আদায় করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সড়ক ও জনপথ (সওজ), গণপূর্ত, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে বিভিন্ন হারে কমিশন নেন নিজাম উদ্দিন হাজারী। এ ছাড়া তাঁর নামে বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে টোল আদায় করা হয়। নিজাম উদ্দিন হাজারী ও অপর এক ব্যক্তির ইশারায় ফেনীতে এসব অপকর্ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আজহারুল হক।
এ সময় সাংবাদিকরা অপর ওই ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে আজহারুল হক বলেন, ওই ব্যক্তির নাম বলা যাবে না। তাঁর নাম বললে আমি বাড়ি পর্যন্ত যেতে পারব কিনা সন্দেহ আছে। এ কথা বলার পর সাংবাদিকেরা নামটি বলে ফেলার কথা বললে তিনি বলেন, দ্বিতীয় ওই ব্যক্তির নাম আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (নাসিম)।
সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আজহারুল হক বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সোমবার ফেনীতে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানেও তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি সুরাহা করে দেওয়ার কথা বলেছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম ও মহিবুল হাসান চৌধুরীও এ ব্যাপারে অবগত আছেন।
ইত্তেফাক/এমআই
