কে আসছে ক্ষমতায় বিজেপি না কংগ্রেস?

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৫

রয়টার্স, এনডিটিভি

বিজেপি নাকি কংগ্রেস? নরেন্দ্র মোদি নাকি রাহুল গান্ধী? ভারতে কে আসছে ক্ষমতায়, তা ঠিক করতে লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটযুদ্ধ শুরু হচ্ছে আজ। সি-ভোটার, টাইমস নাউসহ বেশ কিছু জনমত জরিপ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় তাদের আসন সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে।

ভারতের লোকসভা নির্বাচন ধারণার চেয়েও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয়তাবাদকে ভিত্তি করেই তা পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বের সর্ববৃহত্ এ নির্বাচনী যজ্ঞ কয়েক মাস আগে যেমনটি ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়েও অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ হবে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। গত কয়েক মাস ধরে ত্রিশঙ্কু লোকসভায় একটি আশঙ্কা দানা বাঁধছিল। কিন্তু পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা, বালাকোটে বিমানবাহিনীর অভিযান, আর্থিক ভিত্তিতে উচ্চশ্রেণির মানুষের জন্য দশ শতাংশ সংরক্ষণ এবং কৃষকদের আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভোটের হাওয়া কিছুটা নিজের দিকে ঘোরাতে পেরেছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত বছরের ডিসেম্বরে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি রাজ্যে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস ও কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি চাপে পড়েছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ উন্মাদনা দলটিকে ফের এগিয়ে দিয়েছে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পুলওয়ামায় জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রাণঘাতী গাড়িবোমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। এরপর থেকেই মোদি নিজেকে জাতীয় নিরাপত্তায় প্রহরি হিসেবে চিত্রিত করে যাচ্ছেন, বিরোধীদের বলছেন ‘দুর্বল’, কখনো কখনো তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্নও তুলছেন।

৫৪৩ আসনের লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতাসহ সরকার গড়তে দরকার ২৭২টি আসন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এককভাবে একটি দলের পক্ষে এত সংখ্যক আসন পাওয়া প্রায় অসম্ভব। মার্চ এবং এপ্রিলে কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, বিজেপি এককভাবে ২২৮টি আসন পেতে পারে। আর তার শরিকদের আসন ধরলে ২৭২টি আসন পেতে পারে।

অপরদিকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ২০১৪ সালের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতবার ৪৪টি আসনে জিতেছিল তারা। এবার ৮৮টি আসনে জিততে পারে। কংগ্রেস এবং তার সহযোগী দলগুলো সবমিলিয়ে ১৪০টি আসন পেতে পারে। এছাড়া কংগ্রেস বা বিজেপির সঙ্গে নেই বেশ কয়েকটি দল। বিজেপি-কংগ্রেসকে সমদূরত্বে রেখে একটি ফেডারেল ফ্রন্ট তৈরি করার কথা বলা হচ্ছে। সেই দলগুলো এবং নির্দলীয়রা মিলে মোট ১২৯টি আসন পেতে পারে। কোনো একক দল বা জোট গরিষ্ঠতা না পেলে ফেডারেল ফ্রন্ট ও নির্দলীয়দের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।