কক্সবাজারে বিএফআরআই’র গবেষণার তথ্য প্রকাশ
সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে ১১৭ প্রজাতির সামুদ্রিক সবজি (সি-উইড) শনাক্ত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ১০টি রপ্তানিযোগ্য সবজি। এসব সামুদ্রিক সবজিসমূহে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামসহ মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। যা হূদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও আয়োডিনজনিত গলগন্ড রোগের কার্যকর প্রতিষেধক হিসেবে বিবেচিত বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।
কক্সবাজারস্থ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামুদ্রিক মত্স্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত ‘উপকূলীয় অঞ্চলে সি-উইড চাষ পদ্ধতি’ শীর্ষক তিনদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরেন উপস্থিত গবেষকরা। গত রবিবার শুরু হয়ে মঙ্গলবার বিকালে শেষ হওয়া প্রশিক্ষণে স্থানীয় জেলে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এনজিও কর্মী, সাংবাদিক ও উদ্যোক্তাসহ ৫০ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন।
কর্মশালায় কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান, আশরাফুল হক, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জাকিয়া হাসান, আহমেদ ফজলে রাব্বী, মোজাম্মেল হক, মহিবুল ইসলাম ও প্রকল্প পরিচালক শাহনূর জাহেদুল হাসান প্রমুখ মতামত তুলে ধরেন।
গত ছয় বছর ধরে গবেষণার পর কক্সবাজারস্থ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিজ্ঞানীরা শহরের নাজিরারটেক, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও সেন্টমার্টিন উপকূলসহ শহরতলীর বিভিন্ন নোনাপানির ঘেরে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে এ সফলতা পেয়েছেন বলে দাবি করেন বিজ্ঞানীরা।
এ সফলতার সূত্র ধরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকজনকে সামুদ্রিক সবজি (স্থানীয় ভাষায় সি-উইড ‘হেজালা’ নামে পরিচিত) চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
কক্সবাজারস্থ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামুদ্রিক মত্স্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জুলফিকার আলী সামুদ্রিক শৈবাল চাষ ও ব্যবহার বিষয়ে তাদের গবেষণায় অর্জিত সাফল্য তুলে ধরে বলেন, আমাদের দেশে খাবার হিসেবে এর জনপ্রিয়তা না থাকলেও বিদেশে এসবের প্রচুর চাহিদা ও বাজার মূল্য রয়েছে। এসব পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।
প্রশিক্ষণকালে উপস্থাপিত গবেষণালব্ধ ফলাফলে বিজ্ঞানীরা জানান, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সেন্টমার্টিন দ্বীপ, ইনানী ও শহরতলীর বাঁকখালী মোহনার আশপাশের পাথুরে ও প্যারাবন এলাকায় জোয়ার-ভাটার অন্তর্বর্তী স্থানেই অধিকাংশ সি-উইড জন্মায়।
বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কক্সবাজারস্থ সামুদ্রিক মত্স্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র ২০১৩ সাল হতে সি-উইড নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শহরের বাঁকখালী নদী-মহেশখালী চ্যানেলের মোহনায় নুনিয়ারছড়া থেকে নাজিরারটেক সৈকত সংলগ্ন জোয়ার-ভাটা এলাকা ও মহেশখালী দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক গুরুত্বসমপন্ন সি-উইডের প্রাকৃতিক উত্পাদন ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীরা আরো জানান, আমাদের জলবায়ুতে স্থানভেদে নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রায় ৬ মাস সি-উইড চাষ করা যায়। তবে চাষের সর্বোচ্চ অনুকূল অবস্থা বিদ্যমান থাকে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাস।
বিজ্ঞানীরা আরো জানান, বাংলাদেশের ৭১০ কিলোমিটারব্যাপী সমুদ্র সৈকত এবং ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটারব্যাপী উপকূলীয় অঞ্চলে পরিকল্পিত পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে সামুদ্রিক শৈবাল চাষ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সামুদ্রিক মাছ ও কাঁকড়ার পাশাপাশি চাষ ও রপ্তানি করে বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি জোরদার করা সম্ভব।
