সরাইল-অরুয়াইল ভাঙাচোরা সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০০:৫২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-অরুয়াইল ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়কের চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া বাজার থেকে পাকশিমূল পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক দুই বছর ধরে যানবাহন চলাচল অনুপযোগী। এই পাঁচ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ অংশে দুটি রিকশাও একসঙ্গে পাশ কাটাতে পারে না। এর ওপর দিয়ে হেলে-দুলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এতে যাত্রীদের প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাঝে-মধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনাও।  

জানা গেছে, সাত বছর আগে ২০১০ সালের ১৫ জুলাই সড়কটি উদ্বোধন করা হয়। ১৪ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ছয় কিলোমিটার পড়েছে হাওর এলাকায়। ২০১৬ সালের বর্ষায় সড়কটির হাওর এলাকার তিন কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সড়কটির ওই অংশ সংস্কারের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দুই কোটি ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৪ টাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়। ৩০ মে থেকে এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সময় মতো কাজ শুরু না করার কারণে গত বর্ষায় দ্বিগুণ ক্ষতি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের  মালিক খাইরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।   

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১২ ফুট প্রস্থের দুই তৃতীয়াংশ কোনো কোনো স্থানে পুরোটাই বর্ষার পানির ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে বালুর বস্তার ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। বৃষ্টি হলে বালুর বস্তার অংশ চষা জমিতে পরিণত হয়। আর রোদ পড়লে ধূলাবালুতে একাকার হয়ে যায়। সে স্থান দিয়ে চলাচল করার সময় যানবাহনের যাত্রীরা দুর্ভোগের পাশাপাশি আতঙ্কে থাকেন।

বেহাল সড়কটির কারণে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল, পাকশিমূল ও চুন্টা ইউনিয়নের পাশাপাশি নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ও গোয়ালনগর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। তাদের উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াতের এটিই একমাত্র পথ। এই সড়ক দিয়েই স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসা করে শত শত শিক্ষার্থী। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিটামইন উপজেলার অনেক লোক অল্প সময়ে এই সড়ক দিয়ে কুমিল্লা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, উদ্বোধনের পর এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রিকশা, ভ্যান, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ভ্যান, প্রাইভেট কারসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করতো। এখন শুধু রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সড়কের শেষ প্রান্তে উপজেলার সবচেয়ে বড় অরুয়াইল বাজার। দুই বছর ধরে পণ্যবাহী ছোট-বড় কোনো যানবাহন ওই বাজারে ঢুকতে পারছে না।

অরুয়াইল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব বলেন, অরুয়াইল বাজার সরাইল উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় আশ-পাশের কয়েকটি উপজেলার লোকজন এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। কিন্তু একমাত্র সড়কটি বেহাল হয়ে পড়ায় ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে কোনো পণ্য সরাসরি আনা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায় চরম ক্ষতি হচ্ছে।

সরাইল-অরুয়াইল সড়কে চলাচলকারী অটোরিকশা ও টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিছির আলী বলেন, সড়কটির লোপাড়া বাজার থেকে অরুয়াইল পর্যন্ত অংশ এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, এবারের বর্ষায় সড়কটির বেশি ক্ষতি হয়েছে। প্রতিরক্ষা দেওয়াল ও মাটির কাজসহ ওই সড়ক সংস্কারের জন্য সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় ধরে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করি শিগগির অনুমোদন পাবো।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া দুই (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সাংসদ জিয়াউল হক মৃধা বলেন, আমি একাধিকবার ওই সড়কটি পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করি, অচিরেই এর একটা সুফল পাওয়া যাবে।  

ইত্তেফাক/নূহু