অধিগ্রহণ করা হবে ৯১২ একর জমি
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
সৈয়দপুরে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফিল্ডবুক তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সন্নিবেশিত এলাকায় ওই কার্যক্রম শুরু হয়। নীলফামারীর সৈয়দপুর ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৯১২ একর জমি এর আওতায় অধিগ্রহণ করা হবে।
নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহীনুর আলম, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম গোলাম কিবরিয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার ফিল্ডবুক তৈরিতে অংশ নিচ্ছেন। সৈয়দপুর উপজেলার লক্ষণপুর পশ্চিমপাড়ায় ফিল্ডবুক তৈরিতে কাজ করছিলেন কর্মকর্তারা। এসব বিষয় নিয়ে তারা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম গোলাম কিবরিয়া জানান, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার ঘোষণা দেন। সেই ধারাবাহিকতায় মাঠপর্যায়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সন্নিবেশিত এলাকায় ৯১২ একর জমি অধিগ্রহণের আওতায় আসবে। এর মধ্যে সৈয়দপুর উপজেলায় ৫৩৫ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, সরকারি জমি ৬০ একর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৯ একর, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬ একর, সৈয়দপুর সেনানিবাসের প্রায় ১৪ একর ও খাস জমি ১৩ একর। এ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের ৩১৭ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার জানান, ৯১২ একর জমির মধ্যে কি কি অবকাঠামো রয়েছে এবং এর স্বরূপ সম্পর্কে ধারণা নিতে ফিল্ডবুক তৈরি হচ্ছে। এতে স্থানীয় জনগণ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ স্বাক্ষর থাকবে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দর এলাকার ফজলু চৌধুরী জানান, ফিল্ডবুক তৈরিতে আমরা প্রশাসনকে সহযোগিতা দিয়ে যাবো। সে ক্ষেত্রে আমাদের দাবি হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে জমির ন্যায্যমূল্য পায়।
ভুজারিপাড়া এলাকার নজরুল ইসলাম জানান, জমি অধিগ্রহণের আওতায় আমাদের পৈতৃক ভিটাও পড়েছে। ফলে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইও থাকবে না। তবুও সরকারের এই বৃহত্ প্রকল্পে জমি দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
একই এলাকার পান বিক্রেতা অবিনাশ চন্দ্র রায় জানান, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কারণে পৈতৃক ভিটা ছাড়তে হচ্ছে। তাই সঠিক মূল্য প্রত্যাশা করেন তিনি। সেই সঙ্গে পুনর্বাসনের দাবিও করেন।
সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক শাহীন আহম্মেদ জানান, চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করতে এরই মধ্যে অবকাঠামোর উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলেছে। নির্মিত হচ্ছে নতুন টার্মিনাল ভবন ও পার্কিং জোন। বিমানবন্দর এলাকার মানুষ জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারেও সার্বিক সহযোগিতা করছেন।
সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন জানান, প্রথমে জমি অবৈধভাবে দখলকারীরা জমি দিতে অস্বীকার করলেও এখন সম্মত হয়েছে। বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিককরণ ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বরাবরে দিয়েছেন স্মারকলিপি।
নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান জানান, জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলবো। খুব শিগগিরই সৈয়দপুরের আকাশে বিদেশি বিমান দেখতে পাবো আমরা। বদলে যাবে এখানকার অর্থনৈতিক চিত্র।
