ম্যানাস দ্বীপ থেকে শরণার্থীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৭, ২১:১৬
অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন পাপুয়া নিউগিনির (পিএনজি) সাবেক আটক কেন্দ্র ম্যনাস দ্বীপ থেকে যে সব শরণার্থী নতুন আবাসনে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল তাদেরকে শুক্রবার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রটি তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদেরকে জোর করে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে জানা গেছে।
 
গত ৩১ অক্টোবর পিএনজির এই আটক কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওইদিন হ্যান্ড মাইকে আটক কেন্দ্রের আশেপাশে যারা রয়েছে তাদেরকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়েকটি বাসে করে ৩শ আশ্রয় প্রার্থীকে নিয়ে পুলিশ অন্যত্র তাদের সরিয়ে নেয়। কয়েকজন আটক ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে, তাদেরকে জোর করে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় পুলিশ তাদের ওপর লাঠিপেটা করে বলে তারা অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন মন্ত্রী পিটার দুত্তন বলেন, তারা যে অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয়। তারা অনেককিছু বাড়িয়ে বলেছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ এই অভিযানে যুক্ত ছিল না। উল্লেখ্য অস্ট্রেলিয়ার প্রবেশের অভিপ্রায়ে যারা নৌকায় করে এসেছিল তাদেরকে ম্যানাস দ্বীপ ও নাউরোতে আটক করে রাখা হয়। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, এভাবে আসা অভিবাসী স্রোতকে তারা কখনোই মেনে নিতে পারে না। কেননা এভাবে অভিবাসীদের থাকার অনুমতি দেওয়ার অর্থই হচ্ছে মানব পাচার ও সাগরে মৃত্যুকে স্বাগত জানানো। এর আগে এই দ্বীপটি নিয়ে অনেক কথাবার্তা উঠে। সর্বশেষ পাপুয়া নিউগিনির আদালত এভাবে বন্দীদের রাখাকে অসাংবিধানিক বলে রায় প্রদান করে। আর এ কারণেই অস্ট্রেলিয়া এটি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এখান চলে যেতে বাধ সাধে আটককৃতরা। প্রায় ৬শ আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থী ম্যনাস ছেড়ে চলে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। আশ্রয়প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, তারা অন্য স্থানে নিরাপদ নন। কেননা স্থানীয় লোকজন তাদের ওপর হামলা চালাবে। এ আশঙ্কা থেকেই তারা অন্যত্র যেতে চাইনি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আশ্রয় প্রার্থীরা এর আগে স্থানীয়দের দ্বারা ছুরি ও পাথর হামলার সম্মুখীন হয়েছিল। 
 
প্রথম দফায় ৩ শ জন ম্যানাস ছেড়ে চলে যায়। এর পরবর্তী যাত্রায় অর্থাৎ গতকাল যায় আরো ৩ শ বন্দী। একজন অভিযোগকারী বিবিসিকে বলেন, তারা যেতে চাননি কিন্তু তাদেরকে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। অবশ্য পিএনজি পুলিশ কমিশনার গ্যারি বাকি বলেন, পুলিশের যে অভিযান চালানো হয়েছিল তা ছিল শান্তিপূর্ণ এবং সেখানে কোন বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেনি। বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির