তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বাংলাদেশর ডব্লিউএসআইএস পুরস্কার অর্জন

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৪৬

টানা ৬ষ্ঠ বারের মত তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার 'ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) পুরস্কার-২০১৯' অর্জন করেছে বাংলাদেশের ৮টি প্রজেক্ট। মঙ্গলবার (০৯ এপ্রিল) জাতিসংঘের আইসিটি সংক্রান্ত বিশেষায়িত সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদর দপ্তর জেনেভায় এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ডব্লিউএসআইএস ফোরাম ২০১৯ মনোনীত চেয়ারম্যান মোস্তাফা জব্বার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। 

এ বছর দুইটি মৌলিক উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য এটুআই 'ডব্লিউএসআইএস' সম্মাননা পেয়েছে। এটুআই এর শিক্ষক বাতায়ন এবং মোবাইল বেইজড এইজ ভেরিফিকেশন বিফোর ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন টু স্টপ চাইল্ড ম্যারেজ প্রজেক্ট দুইটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। সারা দেশের শিক্ষকদের একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যে এবং তাদের পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে 'শিক্ষক বাতায়ন' নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। যা সারা দেশের সকল পর্যায়ের শিক্ষকদের একত্র করতে সক্ষম হয়েছে। 

অন্যদিকে মোবাইল বেইজড এইজ ভেরিফিকেশন বিফোর ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন টু স্টপ চাইল্ড ম্যারেজ প্রজেক্টটি এটুআই ইনোভেশন ফান্ড দ্বারা শুরু করা হয়েছে, যাতে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এসএমএস বা ইউএসএসডি অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে জাতীয় সার্ভার থেকে সঠিক বয়স সংগ্রহ এবং যাচাই করা যায়। 

ইউনিসেফ এর এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে বাংলাদেশের ২৯ শতাংশ মেয়েদের ১৫ বছর বয়সেই বিয়ে হয়, ২ শতাংশ মেয়েদের ১১ বছর বয়সে বিয়ে হয় এবং ৬৬ শতাংশ মেয়েদের ১৮ বছর বয়সের মধ্যেই বিয়ে হয়। বাংলাদেশে বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে, বিবাহ নিবন্ধনের সময় জাল জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট বিবাহ রেজিস্ট্রারকে জমা দিয়ে থাকে। এই প্রজেক্ট এর মাধ্যমে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত বয়স যাচাইকরণ হয়েছে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮১ এর মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ৫৭ হাজার ২১১, জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩৭ এবং স্কুল সার্টিফিকেট এর মাধ্যমে ১৯ হাজার ৭৩৩। এর মধ্যে ৩ হাজার ৭৫৯ অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। 

এছাড়া বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এর এস্টাবলিশমেন্ট অব বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিজিটাল আর্কিটেকচার (বিএনডিএ) এ্যান্ড ই-গভর্নমেন্ট ইন্টারোপেরাবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক (ই-জিআইএফ) প্রজেক্ট উইনার এবং ডেভেলপমেন্ট অব ন্যাশনাল আইসিটি ইন্ফ্রানেটওয়ার্ক (ইনফো-সরকার) প্রজেক্ট চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এনজিও’স নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) এর ই-ক্লাইমেট জাসটিস এ্যান্ড রেজিলিয়েন্স থ্রো কমিউনিটি রেডিও এট কোস্টাল এরিয়া’স অব দি বে অব বেঙ্গল ইন বাংলাদেশ এবং ক্রিয়েটিং অ্যাওয়ারনেস অন ই-রাইট টু ইনফরমেশন (ই-আরটিআই) থ্রো কমিউনিটি রেডিও; এমপাওয়ার সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড (এমপাওয়ার) এর জিও ডাটা টু কন্ট্রোল লেট ব্লাইট ফাংগাল ডিজিস ইন পটেটো ইন বাংলাদেশ এবং ব্রীজ ফাউন্ডেশন এর আইটি ফর দি ডিফ্রেন্টলি এবল প্রজেক্টগুলো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

আরও পড়ুন:  পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সেই কিশোরীর ধর্ষণকারী গ্রেফতার

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ডব্লিউএসআইএস-২০১৯ এর সম্মাননা গ্রহণ করার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মাননীয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী জানান, 'এই অর্জন সমগ্র জাতির'। এ বিষয়ে তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ এর রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তারা আরও বলেন, 'আমাদের অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তব রূপ লাভ করেছে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। আইটিইউ আয়োজিত ডব্লিউএসআইএস পুরস্কার-২০১৯ প্রতিযোগিতায় ১৭৭ টি দেশের মধ্যে ৬ষ্ঠ বারের মত বিজয় লাভ করায় আমরা অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই মাঠ প্রশাসনসহ সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, এটুআই, বিসিসি এবং সকল সদস্য ও মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাকে'। 

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম, এটুআই এর পক্ষ থেকে এটুআই এর পলিসি অ্যাডভাইজর জনাব আনীর চৌধুরী, এডুকেশনাল টেকনোলজি এক্সপার্ট জনাব মো: রফিকুল ইসলাম, ইনোভেশন ফান্ড এক্সপার্ট মো: নাহিদ আলম এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য, এবার ডব্লিউএসআইএস পুরস্কারের জন্য সারা বিশ্ব হতে ১১৪০টি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয় ১০৬২টি আবেদন। দ্বিতীয় দফা বাছাই ও মূল্যায়নে টিকে থাকে ৪৯২টি প্রকল্প। পরবর্তীতে সারা বিশ্বের ভোটাভুটির জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয় প্রকল্পগুলো। সেখানে ২০ লাখ ভোটে তালিকায় আসে ৯০টি প্রকল্প। এর মধ্যে ৭২টি প্রকল্প চ্যাম্পিয়ন এবং ১৮টি প্রকল্প উইনার হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশের ০৭ টি প্রকল্প চ্যাম্পিয়ন এবং একটি প্রকল্প উইনার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি