নিপীড়কদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৫৯

সোনিয়া আফরিন

বর্তমান সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের মধ্যে ধর্ষণ বা বলাত্কার অন্যতম। দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়েই বেড়ে চলেছে এই তিন অক্ষরের শব্দটি। শব্দটি তিন অক্ষরের হলেও এর ব্যাপ্তি তথা প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ধর্ষিতা নারী সমাজের কাছে ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো বিবেচ্য হয়। উঠতি বয়সী নারী থেকে শুরু করে বৃদ্ধা, সন্তানের জননী এমনকি ছোট্ট শিশু পর্যন্ত বিকৃত মস্তিষ্কের সেই ধর্ষকের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

গত ৯ মার্চ ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় আরো একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কিশোরী দোলনকে তার সহপাঠী কণা আক্তার মেলায় যাওয়ার কথা বলে কৌশলে মদ্যপান করিয়ে কিছু যুবকের হাতে তুলে দেয়। (সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক) হিংস্র হায়েনাগুলো অচেতন অবস্থায় মেয়েটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। মেয়েটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পরে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃৃত ঘোষণা করেন।

কলেজপড়ুয়া দুই ছাত্র ও তাদের সহযোগী নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে গণধর্ষণ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদীতে। এছাড়া সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানায় গ্রামের এক বখাটের উত্ত্যক্তের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে দশম শ্রেণির ছাত্রীর পড়াশোনা। প্রকৃতপক্ষে উত্ত্যক্ত করা যৌন হয়রানির নামান্তর। উপরোক্ত প্রতিটি সংবাদ, ঘটনা আমাদের অজানা নয়। হরহামেশা টিভি চ্যানেল, পত্র-পত্রিকায় ধর্ষণের খবর আমাদের আলাদা নজর কেড়ে নেয়। এখানেই শেষ নয়; নৃশংস ধর্ষকের কবল থেকে ছাড় পায়নি ছোট্ট মেয়ে শিশুটিও। হ্যাঁ, কুমিল্লায় ঘটেছে সেরকমই আরেকটি ঘটনা। তেঁতুলের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে মেয়েটির মায়ের আহাজারির দৃশ্য!

উপরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণের কিছু খণ্ডচিত্র পেশ করেছি। কেন আজ সোনার বাংলায় চলছে এমন বর্বরতা! এই কী ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা? এই কী ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সেই বাংলা? যুগে যুগে আমাদের পথদ্রষ্টাদ্বয় এই কারণেই কী বাংলার জন্য সংগ্রাম করে গিয়েছেন? জানি প্রতিটা উত্তর হবে ‘না’। আমাদের দেশের মাননীয় স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রী যেখানে নারী সেই দেশে অন্তত দফায় দফায় ধর্ষণ শোভা পায় না।

অন্তত শিশুদের সঙ্গে যে-সকল নরাধম ধর্ষণের মতো গর্হিত কাজটি করবে তাদের যেন ক্রসফায়ারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া যে-কোনো ধরনের ধর্ষণ মারাত্মক অপরাধ। কিছু কিছু ধর্ষক রাজনৈতিক কারণে পার পেয়ে যায়। সকল ধর্ম, দল, মত নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনা হলে ধর্ষকরা হালে পানি পাবে না। সন্ত্রাসের যেমন কোনো ধর্ম হয় না তেমনি ধর্ষকেরও কোনো ধর্ম বা দল হয় না। এই মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে ধর্ষণ বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। ধর্ষকরা যেন সমাজে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেদিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অন্য একজন ধর্ষককে সমাজে প্রতিষ্ঠা পেতে দিবে না।

ধর্ষকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হোক আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।

n লেখক:শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা