পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সেমিনারে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সড়কে মৃত্যুর মিছিল ও বিশৃঙ্খলা রুখতে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সম্প্রতি সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহাজাহান খানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ১১১টি সুপারিশ প্রণয়ন করেছে। কিন্তু সরকারের এই উদ্যোগের কতটা বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে সাধারণ ও সচেতন মহলে রয়েছে বড় প্রশ্ন।
গতকাল বুধবার কলাবাগানে পবা কার্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। পবা’র চেয়ারপারসন আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সোবহান, সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, ক্যাব নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ, হাবিবুর রহমান মল্লিক, মো. সেলিম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি যে পরিমাণ ও যে মানের বাস চালানোর শর্তে রুট পারমিট পায় তারা তার চেয়ে অনেক কম পরিমাণ এবং নিম্নমানের বাস চালায়। কোম্পানির যেখানে ৫০টি বাস চালানোর কথা সেখানে তারা চালাচ্ছে ১০টি। কম বাস চালানোর কারণে যাত্রীদের গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যাত্রীরা পরিবহন না পেয়ে চলন্ত বাসে ঝুঁকি নিয়ে উঠানামা করছে। এতে দুর্ঘটনা বাড়ছে। আর চাহিদা থাকায় গেট লক না দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে বাস কোম্পানিগুলো।
প্রয়োজন প্রতিটি রুটে পিক ও অফ-পিক সময়ে শর্ত অনুসারে পর্যাপ্ত পরিমাণে বড়ো বড়ো বাস চলাচল নিশ্চিত করা। রাস্তায় যাত্রী উঠানো নামানো ও বেপরোয়াভাবে বাস চালানো কমাতে বাসচালকদের বেতন ট্রিপভিত্তিক না করে মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। বাসচালক ও নির্দিষ্ট কোম্পানির হাতে বাসের দায়িত্ব দিলে যাত্রীসেবার মান কমবে কিন্তু ভাড়া বাড়বে এবং সড়কে নৈরাজ্য আরো বাড়বে।
বক্তারা বলেন, ঢাকা মহানগরীরর বিভিন্ন রুটে ৬টি কোম্পানির বাস চালানোর সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। এতে বাস মালিকদের সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী দানবীয় আকার ধারণ করবে। সারাদেশ তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়বে। অনেকগুলো কোম্পানি থাকার পরও আমরা দেখি কিছু কোম্পানি সরকারের সিদ্ধান্ত, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাকেও বৃদ্ধাগুলি দেখায়। কোম্পানির পরিমাণ কমিয়ে অল্প কয়েকটি করা হলে তারা আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে যাবে। তাদের স্বেচ্ছাচারিতার কাছে পুরো যাতায়াত ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে।
মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলায় ট্রাফিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্ট করতে হবে। তারা বাসের রুট নির্ধারণসহ সময়, গতি ও অন্যান্য পরিকল্পনা গ্রহণ করবে এবং জাতীয়ভাবে একটি কেন্দ্রিয় ট্রাফিক প্ল্যানিং এবং মনিটরিং ডিপার্টমেন্ট থাকবে। এই ডিপার্টমেন্ট সারাদেশে চাহিদা অনুসারে রেল, নৌ, সড়ক ও আকাশপথের সাথে সমন্বয় সাধন করে যাত্রী এবং মালামাল পরিবহন সেবার বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনাক্রমে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন মনিটরিং করবে।
