জাবির রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীপন্থীদের মধ্যে বিভেদ

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৭, ২১:৩০
 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী হয়েছেন ১১৮জন। এর মধ্যে আওয়ামীপন্থী গ্রাজুয়েটরা ২টি ও বিএনপিপন্থী গ্রাজুয়েদের পক্ষ থেকে ১টি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। 
 
মঙ্গলবার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে এসব প্যানেল ঘোষণা করা হয়। বিএনপিপন্থী গ্রাজুয়েটরা একাট্টা হয়ে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী’ নামে একটি প্যানেল ঘোষণা করেন। যার নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক শামছুল আলম সেলিম। আর এ প্যানেলের উপদেষ্টা হিসেবে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান। অন্যদিকে আওয়ামীপন্থী গ্রাজুয়েটরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দুভাগে। এতে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীরের নেতৃত্বে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল জোট।
 
অন্যদিকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে গঠিত হয় ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল গ্রাজুয়েট মঞ্চ। যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক এমএ মতিন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী ও জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম। 
 
জানা যায়, নির্বাচনে মোট ১১৮জন প্রার্থীর মধ্যে ২৫টি সিটের বিপরীতে তিন প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন মোট ৭৫জন প্রার্থী। এছাড়া অন্য ৪৩জন প্রার্থী নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। এদিকে দীর্ঘ ১৯ বছর পর বৃহস্পতিবারের (৩০ ডিসেম্বর) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে ক্যাম্পাসের শিক্ষক রাজনীতি। প্রত্যেক প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। আর আওয়ামীপন্থীদের গ্রাজুয়েটদের দুভাগে বিভক্ত হওয়ার কারণে নির্বাচনে জটিল সমীকরণ হবে বলে জানান ভোটাররা। যদিও এক প্যানেল থেকে সমোঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় আওয়ামীপন্থী গ্রাজুয়েটরা। 
 
অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম তার এই মেয়াদে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন, সিন্ডিকেট নির্বাচন ও ডিন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেন। তবে এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নিয়ে তার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। কারণ দীর্ঘ ১৯ বছর পরে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষকরা। 
 
নির্বাচন সম্পর্কে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকল পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। আশা করছি নির্বাচন সঠিক সময়ে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হবে।  
 
ইত্তেফাক/আরকেজি