বঙ্গোপসাগরের সোনারচর এলাকায় ডাকাতের কবলে পড়া ৯ ফিশিং বোটের ৫০ জেলের সন্ধান সাত দিনেও মেলেনি। নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্বজনদের পথ চেয়ে তারা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপকূলে ফিরে আসা ‘এফভি ফরহাদ’ মালিক কাইয়ুম সওদাগর জানান, জলদস্যুরা তাদের ট্রলারের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। অন্যদের কী অবস্থা তা তারা জানেন না। জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী বলেন, ডাকাতির ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট নিখোঁজ জেলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়েব জানান, সাগরে ট্রলার ডাকাতির ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।
‘এফভি মায়ের দোয়া’ নামে নিখোঁজ ট্রলারের মালিক শামসুল আলম বলেন, ২১ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে দস্যুরা গুলিবর্ষণ করে গণ ডাকাতি শুরু করে। এ সময় প্রায় ২০টি ফিশিং বোট পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও অর্ধশতাধিক জেলেসহ ৯টি ফিশিং বোট ফেরেনি।
সোনারপাড়া উপকূলে অপেক্ষমাণ নিখোঁজ ফিশিং বোটের জেলে আব্দু ছালাম, আব্দু শুক্কুর, মো. সেলিম ও হানিফ মাঝির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানতে চাওয়া হলে তারা হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। নিখোঁজ ৯টি ফিশিং বোটের মালিক শামসুল আলম, শফিকুর রহমান, নাগু কোম্পানী, কামাল সওদাগর, হাফেজ মিয়া, ফজল কোম্পানী, মতিউর রহমান, আলি আহমদের সঙ্গে কথা হয় সোনারপাড়া এলাকায়। তারা জানান, ৯টি ফিশিং বোটে প্রায় ৫০ জন জেলে রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ জেলে পরিবার পরিজনের সাথে দেখা হয়েছে। তাদের যতদূর সম্ভব আর্থিক সহযোগিতা ও সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে, যেভাবে হোক নিখোঁজদের উদ্ধার করা হবে।
ইত্তেফাক/আনিসুর
