ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় উপজেলার সর্বত্রই এখন রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম পড়েছে। কিষাণ-কিষাণীর মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ। তারা এখন সোনালী ধান ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও ধানের ফলনে কৃষকেরা খুশি। এবার এ উপজেলায় ৫৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ছোট বড় প্রত্যেক কৃষক এখন নতুন ফসল ঘরে তোলার কর্ম ব্যস্ত। ধান কেটে আটি বেঁধে মাথায় করে, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, ভ্যান গাড়ি করে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে। গ্রামগঞ্জের রাস্তা ঘাট, বাড়ির উঠান, খোলা মাঠ-ময়দানে, কাঁচা পাকা রাস্তায় মাড়াই করা ধান ও খড় শুকানোর কাজে সময় কাটাচ্ছেন বউ ঝিয়েরা। কথা হয় পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের কৃষক আ. বছির মণ্ডলের সাথে।
তিনি বলেন, প্রতি বিঘা আমন আবাদে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমি ৩ বিঘা আমনের আবাদ করেছি। আবাদ ভালই হয়েছে। মৌহতলা গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে আমন লাগিয়েছিলাম। ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কামলা পাওয়া যাচ্ছে না। কামলার চাহিদা বেড়ে যাওয়া ময়না (মজুরি) বেশি তাই খরচ কিছুটা কমাতে কামলার সাথে আমি নিজে ও পরিবারের লোকজন পরিশ্রম করছি।
পাটুলী গ্রামে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ব্লকে প্রতি হেক্টরে রোপা আমন ব্রি-৪৯- ৫ মেট্রিকটন, হরি সাড়ে ৪ মেট্রিকটন, বিনা-৭ সোয়া ৪ মেট্রিক টন ও পায়জাম সাড়ে ৪ মেট্রিক টন কাটা হয়েছে। স্থানীয় জাত এখনো কাটা শুরু হয়নি।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা অফিসার ড. নাসরিন আক্তার বানু জানান, এবার ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪শ' হেক্টর জমিতে বেশি রোপা আমন আবাদ হয়েছে। এবার ১৯ হাজার ৩শ' ৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সেখানে আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৭শ' ৬৯ হেক্টর। চাউলের হিসাবে উপজেলায় ৫৮ হাজার ২শ' ৯২ মেট্রিক টন চাউল উৎপাদন হবে। বৈরি আবহাওয়া না থাকলে আরো ৩ থেকে ৫ ভাগ চাউল বেশি উৎপাদন হতো বলেও জানান তিনি।
ইত্তেফাক/জামান
