গ্রিন লাইনের বিরুদ্ধে মামলা

রাসেল পেলেন ৫ লাখ টাকা বাকি অর্থ এক মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪১

বাসের চাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ পাঁচ লাখ টাকার চেক দিয়েছে গ্রীন লাইন পরিবহন কোম্পানি। একই সঙ্গে ওই কোম্পানির সময় আবেদন মঞ্জুর করে বাকি ৪৫ লাখ টাকা ৩০ দিনের মধ্যে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এর পাশাপাশি দেশের মধ্যে যেখানে ভালো চিকিত্সা হয় সেখানে ভিকটিমের চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন।

গ্রীন লাইনের মালিক হাজী মো. আলাউদ্দিনের উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, যেভাবে প্রতিবেদন এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে এটা দুর্ঘটনা পর্যায়ে পড়ে না। চালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে চাপা দেয়। তবে দুর্ঘটনার পেছনে বাস মালিকদের পাশাপাশি পুলিশের অবহেলা রয়েছে। কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে গাড়ির সংখ্যাও। মানুষ আইন মানছে না,              আবার পরিবহন চালকরাও বেপরোয়া। চালকরা আট ঘন্টার বেশি ডিউটি করছে। এতে চালকের শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম হচ্ছে না। পরিবহন মালিকদের এদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

আদালত আরো বলেন, রিটকারী এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছিল। কিন্তু আমরা ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এ পর্যায়ে গ্রীন লাইনের মালিক বলেন, আমি এত টাকা দিতে পারব না। আপনারা আমার ব্যবসা বন্ধ করে দেন। ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছি।

আদালত বলেন, ব্যবসাবাণিজ্য করছেন সেটা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য কঠোর আদেশ দেয়নি। আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল শুরুতে ভিকটিমের পর্যাপ্ত চিকিত্সার ব্যবস্থা করা।

পরিবহনের আইনজীবী মো. ওজিউল্লাহ বলেন, আমরা চেয়েছি, কিন্তু রাসেল বলেছে একটা এনজিও তার চিকিত্সার ব্যয় বহন করছে।

রাসেল বলেন, ঘটনার পর বাস কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তারা আশ্বাস দিয়েছিল আমার চাকরির ব্যবস্থা করবে সেটাও করেনি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও রিটকারীর আইনজীবী শামসুল হক রেজা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।