ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ ৮ সিটি করপোরেশনে দুদকের অভিযান

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৫

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ট্রেড লাইসেন্সের নির্ধারিত ফি সাড়ে ৪ হাজার টাকা। অথচ এক গ্রাহকের কাছে এজন্য করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের কর অঞ্চল-১ এর অফিস সহায়ক মোহাম্মদ আলী দাবি করেন ১৫ হাজার টাকা। গতকাল বুধবার এ ঘটনা হাতে-নাতে ধরে ফেলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম। এরপর দুদক টিম মোহাম্মদ আলীকে আটক করে করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট সোপর্দ করে। দুদকের অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

দুদক সূত্র জানায়, নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ, নবায়ন, জন্ম নিবন্ধন সনদসহ বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তিতে সিটি করপোরেশন অফিসগুলোতে কতিপয় ব্যক্তি ঘুষ লেনদেন করছে বলে দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (১০৬) একাধিক অভিযোগ আসে। এর প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার দেশের ৮ সিটি করপোরেশন অফিসে একযোগে আকস্মিক অভিযান চালায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। এর মধ্যে দুদক প্রধান কার্যালয়ের টিম ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে, কুমিল্লা সমন্বিত কার্যালয়ের টিম কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়ের টিম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, রাজশাহী সমন্বিত কার্যালয়ের টিম রাজশাহী সিটি করপোরেশন, সিলেট সমন্বিত কার্যালয়ের টিম সিলেট সিটি করপোরেশন, খুলনা সমন্বিত কার্যালয়ের টিম খুলনা সিটি করপোরেশন ও রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের টিম  রংপুর সিটি করপোরেশনে অভিযান চালায়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে গিয়ে দেখা যায়, বহিরাগত কিছু লোক চেয়ার টেবিল নিয়ে অফিস করছে যারা করপোরেশনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এ ব্যাপারে রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। দুদক টিম এই ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক একটি রিপোর্ট দাখিল করতে বলেছে।

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে দেখা যায় ট্রেড লাইসেন্স এর ফি বাবদ গৃহীত অর্থের কোনো রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হচ্ছে না।

এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও রংপুর সিটি করপোরেশনে বেশকিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এছাড়া সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়।