হত্যার পর গোডাউনের ভেতরে মাটিতে পুঁতে রাখার ১০ দিন পর পুলিশ ফতুল্লার ভোলাইল এলাকা থেকে ঝুট কাপড়ের ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান চৌধুরী ওরফে সেলিম চৌধুরীর (৫২) লাশ গতকাল বুধবার বিকালে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় সেলিম চৌধুরীর ব্যবসায়িক অংশীদার মো. আলী এবং তাদের কর্মচারী ফয়সাল ও ইউনুসকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মো. আলীর সঙ্গে পার্টনারশিপে গার্মেন্টসের ঝুট কাপড়ের ব্যবসা করতেন কামরুজ্জামান চৌধুরী ওরফে সেলিম চৌধুরী। ভোলাইলে ছিল তাদের ঝুটের গোডাউন। এই গোডাউনেই পার্টনার মো. আলীর সাথে পাওনা টাকা নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরী। এর জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করার লক্ষ্যে মাটি চাপা দেওয়া হয়। কেউ যেন কিছু বুঝতে না পারে সে জন্য মাটির উপর দেওয়া হয় সিমেন্টের আস্তরণ। এমনকি সেই লাশের উপর গত ১০ দিন ধরে খুনিরা চালিয়ে যাচ্ছিল তাদের ব্যবসা। ১০ দিন আগে নিখোঁজ হওয়া ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী রেখা আক্তারের জিডির তদন্ত করতে গিয়ে সেলিম চৌধুরীর কর্মচারী ফয়সালকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে লাশ পুঁতে রাখার রহস্য। ফয়সালের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর কর্মচারী ইউনুস এবং ফতুল্লার কাশীপুর এলাকা থেকে ব্যবসায়ী মো. আলীকে আটক করে পুলিশ।
ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক মামুন আল আবেদ জানান, গত ৩১ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন কামরুজ্জামান চৌধুরী ওরফে সেলিম চৌধুরী (৫২)। ওই ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী দায়ের করা জিডির তদন্ত চলছিল। গতকাল বুধবার ভোলাইল মিষ্টির দোকান এলাকায় অবস্থিত ঝুটের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে সেলিম চৌধুরীর লাশ মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়। ৩১ মার্চ রাতেই সেলিমকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি আমরা। ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ আসলাম হোসেন জানিয়েছেন, আটক ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গোডাউনটি সেলিম চৌধুরীসহ তার পার্টনারদের তত্ত্বাবধানে ছিল। ৩১ মার্চ পার্টনারদের কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাইতে ভোলাইলের গোডাউনে আসেন সেলিম চৌধুরী। পরে টাকা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে সেলিম চৌধুরীকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে লাশ গুম করার লক্ষ্যে গোডাউনের ভেতরেই মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখা হয়।
ফতুল্লার বক্তাবলী কানাইনগর এলাকার বাসিন্দা সেলিম চৌধুরী পরিবার পরিজন নিয়ে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। ৩১ মার্চ বেলা ১১টার দিকে সেলিম চৌধুরীর সাথে তার স্ত্রী রেখার সর্বশেষ কথা হয়। তখন সেলিম তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি পঞ্চবটির মোড়ে ইস্টার্ন ব্যাংক রয়েছেন। এরপর একই দিন দুপুর ২টার দিকে সেলিমকে ফোন করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
