১০ ডিসেম্বর নড়াইল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মিত্রবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া নড়াইলের বীর মুক্তিবাহিনী, মুজিব বাহিনী এবং মুক্তিপাগল দামাল ছেলেরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী মিলিশিয়া বাহিনী ও রাজাকারদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করে নড়াইলকে মুক্ত করে।
দিবসটি পালনের জন্য নড়াইলের জেলা প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিট, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, চিত্রা থিয়েটারসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী পৃথক পৃথক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, '৭১ এর বদ্ধভূমি ও গণকবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের র্যালি, পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণ নিয়ে পথ নাটক, আলোচনাসভা ও গণসংগীত।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দশ লক্ষাধিক মানুষের বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণে স্বাধীনতার যে আহ্বান ছিল নড়াইলের মুক্তি পাগল জনতা তা থেকে পিছুপা হয়নি। নড়াইল ছিল মুক্তিযুদ্ধে ৮ নম্বর সেক্টরের অধীন রণ কৌশলগত এলাকা। প্রথম দিকে ওসমান চৌধুরী এবং পরবর্তীতে মেজর মঞ্জুর নেতৃত্ব দেন এই সেক্টরের। ১৩ এপ্রিল যশোর অবস্থানের পরই হানাদাররা তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদরদের সহায়তায় নড়াইলের নিরীহ জনগণের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা শুরু করে। এসময় অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে অস্ত্র সংগ্রহের মধ্য দিয়ে প্রতিরোধ সংগ্রামের সূচনা করে নড়াইলের মুক্তি পাগল জনতা। পরে তারা ভারতে গিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরে এসে হানাদারদের বিরুদ্ধে নিজেদের বিভিন্ন এলাকায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। এর এক পর্যায়ে প্রায় দুই শতাধিক খানসেনাসহ রাজাকার-আলবদরদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে কালিয়া থানা মুক্ত হয় ২৪ নভেম্বর।
লোহাগড়া মুক্ত হয় ৭ ডিসেম্বর। নড়াইল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা চিত্রা নদীর পূর্ব তীর থেকে ৯ ডিসেম্বর মুক্তি যোদ্ধাদের সম্মিলিত চূড়ান্ত আক্রমণ পরিচালিত হয় নড়াইল শহর মুক্ত করতে। বর্তমান পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে অবস্থিত নড়াইলে হানাদারদের সর্বশেষ ঘাঁটি দখলের মধ্যদিয়ে ১০ ডিসেম্বর সম্পূর্ণভাবে শত্রুমুক্ত হয় নড়াইল। অগ্নিঝরা সেইসব দিনের স্মৃতি আজো তাড়া করে ফেরে সম্মুখ সমরে অংশ নেয়া বাংলা মায়ের সেই সব সূর্য সন্তানদের। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ৮ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর মঞ্জুর নড়াইলে আসেন এবং মুক্তি পাগল হাজারো জনতার উপস্থিতিতে ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
মুক্তিযুদ্ধে নড়াইলে ৫ জন খেতাব প্রাপ্ত হন। তারা হলেন- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ, বীর উত্তম মুজিবুর রহমান, বীর বিক্রম আফজাল হোসেন, বীর প্রতীক খোরশেদ আলম ও বীর প্রতীক মতিয়ার রহমান।
ইত্তেফাক/জামান
