‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানটির মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পহেলা বৈশাখকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এটি বাংলা সনের প্রথম দিন। এই দিনটিকে আমরা নববর্ষ হিসেবে পালন করি। নববর্ষের উত্সব আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এই দিনটাকে ঘিরে সাজসজ্জা, ঘরবাড়ি পরিষ্কার, নানারকম খাবারের আয়োজন, নতুন কাপড়চোপড় পরার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনদের আমন্ত্রণ জানানো এবং একে অপরকে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। নববর্ষকে উত্সবমুখর করে তোলে বৈশাখী মেলা। মেলায় থাকে নানারকম আয়োজন। বৈশাখী উত্সবে বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরও উত্সাহের কোনো কমতি থাকে না। নতুন পোশাক পরে, নতুন সাজে রঙিন হয়ে বৈশাখী উত্সবে তারাও যোগ দেয়। শহর ও গ্রামে নানাভাবে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হওয়া এই নববর্ষ নিয়ে কী ভাবছে আমাদের ছোট্ট বন্ধুরা। এবারের পহেলা বৈশাখ কীভাবে পালন করবে তারা, কেমন তাদের প্রস্তুতি—এসব নিয়েই এ আয়োজন। গ্রন্থনা করেছেন—রুমান হাফিজ
সবার জন্য প্রার্থনা করব
দেবার্পন দত্ত
পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উত্সব। সেদিন খুব ভোরে উঠে পুরো ঘর ফুল দিয়ে সাজিয়ে রঙিন করে তুলি। স্নান সেরে নতুন পোশাক পরে মন্দিরে সকলের জন্য প্রার্থনা করতে যাই। তারপর বড়দের প্রণাম এবং সমবয়সী ও ছোটদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করি। এরপর সকলে মিলে নাড়ু মোয়া ও অন্যান্য মিষ্টি খাবার দিয়ে মিষ্টি মুখ করি। তারপর মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগদান করি। ওখান থেকে সোজা মেলায় চলে যাই। মেলায় নাগরদোলায় চড়া, খাওয়াদাওয়া আর এটাসেটা কিনে বাড়ি ফিরি। বিকেলে পাড়ায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ওখানে যোগ দিই। প্রচুর আনন্দে কেটে যায় নববর্ষের সারাদিন। এবার নববর্ষের দিন সবার মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করব।
ষষ্ঠ শ্রেণি, প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, চট্টগ্রাম (ইংরেজি মাধ্যম)
বৈশাখী মেলা ঐতিহ্যের বাহক
খাদিজা আক্তার সায়মা
পহেলা বৈশাখ আমাদের একটি বিশেষ দিন। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে আমরা নানা উত্সব ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। পহেলা বৈশাখে আমার কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বৈশাখী মেলা। কারণ, বৈশাখী মেলায় খুঁজে পাওয়া যায় এদেশের হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী, যা আমাদের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। সারাটা বছর তাই বৈশাখী মেলার অপেক্ষায় থাকি। মেলায় গিয়ে নাগরদোলায় চড়ার মজাটাই আলাদা। এবারো তা মিস করব না। এ মেলা আমার প্রাণে এনে দেয় খুশির বন্যা, ধুয়ে মুছে দেয় সারা বছরের কর্মক্লান্তি আর আমি নতুন করে বাঙালি ঐতিহ্য লালন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা পাই।
দশম শ্রেণি, উইমেন্স মডেল কলেজ, সিলেট
লাল পাঞ্জাবি পরব মেলায়
শরীফ ওয়ালিউর রহমান
পহেলা বৈশাখ আমার কাছে খুব আনন্দের একটি দিন। এদিন আমি বাবা, মা ও বোনের সাথে ঘুরতে যাই। আমার বাবা যেখানে থাকেন
(কুমিল্লা) সেখানে সকালবেলা মেলা বসে। আমি সেই মেলায় বেলুন কিনি, ম্যাজিক শো দেখি। সবাই রঙিন কাপড় পরে। আমিও লাল পাঞ্জাবি পরি। আম্মু আমার জন্য এবং আমার বোনের জন্য অনেক খেলনা ও খাবার কিনে দেয়। আমরা খেলনা নিয়ে অনেক মজা করব, খেলাধুলা করব।
প্রথম শ্রেণি, স্যার জন উইলসন স্কুল, ঢাকা
অনেক খেলনা কিনব
নানজীবা আহমদ অহনা
প্রতিবারই আম্মু আমার জন্য পহেলা বৈশাখে রঙিন জামা কিনে দেয়। সেই জামা পরে মেলায় যাই। এবারো আম্মু বলেছে মেলায় নিয়ে যাবে। পহেলা বৈশাখের দিন আমাদের স্কুলে প্রোগ্রাম হবে। সেখানেও যাব। বন্ধুদের সাথে অনেক মজা করব, খাওয়াদাওয়া করব। এবার মেলায় গিয়ে অনেকগুলো খেলনাপাতি কিনব আমি। সেদিন বাসায় আম্মু অনেক ভালো ভালো খাবার রান্না করবে। পহেলা বৈশাখের দিনটা খুবই হাসিখুশিতে কাটাব। দিনটা সবারই খুব খুশিতে কাটুক।
তৃতীয় শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
সারাদিন আনন্দে কাটাব
রিয়াজ উদ্দিন তাহমিদ
বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন বাঙালির ঐতিহ্য। প্রতিবারের মতো এবারো পহেলা বৈশাখের দিন পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে স্কুলে যাব সবাই। স্কুলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে গান, আবৃত্তিতে অংশ নেব। বিকেলে মেলায় গিয়ে নানারকম কেনাকাটা করব। বিশেষ করে জিলাপি, তরমুজ এবং বোনদের জন্য খেলনা কিনে বাড়ি ফিরব। আমাদের এলাকায় পহেলা বৈশাখ মূলত মেলাকেন্দ্রিক। বিশাল জায়গা জুড়ে বৈশাখী মেলা বসে। আমরা ছেলেবুড়ো সবাই মেলায় এসে কেনাকাটা করে, ঘুরে, অনেক আনন্দ করে দিনটি উদ্যাপন করি।
অষ্টম শ্রেণি, কাকৈরতলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা
