জীবন সংগ্রামে আত্মপ্রত্যয়ী এক তরুণীর নাম বিথি খাতুন। বৃদ্ধা মা জয়নব বেগমের দেখভাল আর সংসারের দুমুঠো খাবার জোগাতে বাধ্য হয়ে নিজেই অটোভ্যানের চালক হয়েছেন। শুধু তাই নয় মাটিকাটা থেকে শুরু করে কঠোর সব পরিশ্রমই করছেন তিনি। এই বয়সে তার স্বামী সংসার করার কথা থাকলেও শুধু বৃদ্ধা মায়ের কথা ভেবে আর সংসার করা হয়ে ওঠেনি। নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অথবা বাসস্ট্যান্ডে দেখা মিলবে বিথির।
উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা বিথি। ছয় ভাই বোনের মধ্যে ছোট তিনি। বাবা ইয়াকুব আলী ছিলেন ভ্যানচালক। তিনি চার বছর আগে মারা গেছেন। অভাবের সংসারে পরিবারের কোন সন্তানের স্কুলের গণ্ডি পার হওয়া সম্ভব হয়নি। তাই জীবিকার তাগিদে কেউ দিনমজুর আবার কেউ গার্মেন্টস কর্মী। তাদের অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের পাশে দাঁড়াতে ব্যাটারি চালিত অটোভ্যান চালিয়ে সংসারের হাল ধরেন বিথি।
বিথি নিয়মিত বগুড়ার রনবাঘা বাজার থেকে সিংড়ার বোয়ালিয়া বাজার পর্যন্ত যাত্রী আনা-নেওয়া করেন। এতে করে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩শ' টাকা পর্যন্ত রোজগার হয়। এই দিয়ে চলে তার সংসার আর অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ। এমনকি সারাদিন ভ্যান চালালেও যেন ক্লান্তি নেই তার। মায়ের সেবা যত্ন নিজ হাতেই করেন। সময়মত খাবার আর ওষুধ খাইয়ে দিতেও ভুলেন না তিনি। তাই এই মায়ের এখন একমাত্র অবলম্বনই তার মেয়ে বিথি। তার এমন কর্মে প্রতিবেশীরা তাকে ভাল দৃষ্টিতেই দেখেন। প্রতিবেশী রহিম, একরাম হোসেন সহ অনেকে বলেন, 'বিথি কখনও বসে থাকে না। ভ্যান ছাড়াও মাটিকাটা কাজও করে। পরিশ্রমে তার কোন ক্লান্তি নেই।'
নিজের কথা বলতে গিয়ে বিথি বলেন, 'বাবা মারা যাবার পর মায়ের কথা ভেবে সংসারের হাল ধরি। ৩ ভাই কেউ দেখে না, তিন বোনের মধ্য আমি ছোট, অন্য বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। এজন্য মায়ের সেবায় নিজের সংসার করা হয়ে উঠেনি।' তিনি আরও বলেন, 'এতদিন অন্যের ভ্যান চালিয়ে সংসার চালিয়েছি কিন্তু পোষায় না, এ জন্য ২ মাস আগে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৪৫ হাজার টাকা লোন নেই। কিস্তির টাকা শোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি।'
সিংড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ জানান, 'বিথি সমাজের পরিশ্রমী নারীদের একটা উদাহরণ, তাছাড়া বৃদ্ধা মায়ের পাশে দাঁড়ানোর সাহসী নারী তিনি।' চলনবিল ফেসবুক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এমরান আলী রানা ও মহাসচিব মাহাবুব আলম বাবু বলেন, 'সমাজের বিত্তবানদের বিথির পাশে দাঁড়ানো দরকার। কারণ তার ভবিষ্যৎ আছে, মায়ের জন্য বিথির ভালোবাসা সমাজের জন্য মেসেজ।'
ইত্তেফাক/জামান
