এক মলাটে মারুফুল ইসলাম

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২০:০৬

সৃজনশীলতাকে যিনি অকৃত্রিমতায় লালন করেন তিনিই এর গুরুত্ব উপলব্ধিতে সক্ষম হন। এমনই একজন সৃষ্টিশীল প্রতিভা কবি মারুফুল ইসলাম, যিনি বলতে পারেন ‘আমার মতো করে সৃজনশীলতার কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’ তাঁর কাব্যসাধনার একটি যথার্থ পরিচয় পাওয়া যায় হারুন পাশা সম্পাদিত ‘পাতাদের সংসার’ পত্রিকার মারুফুল ইসলাম সংখ্যায়। ‘পাতাদের সংসার’ পাঁচ বছর ধরে জীবিত সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে আসছে, যা খুবই আশাব্যঞ্জক সংবাদ আমাদের সাহিত্যাঙ্গনে।

২৭২ পৃষ্ঠার মারুফুল ইসলাম সংখ্যায় কবির কবিতা, ছড়া এবং তাঁর জীবন নিয়ে লিখেছেন ৫২ জন আলোচক। প্রতিটি আলোচনা যেমন তথ্যবহুল তেমনি সৃষ্টিশীল। কবির কাব্যপ্রতিভাকে আলোচকগণ বিষয়, আঙ্গিক ও ব্যক্তিগত চিন্তার জায়গা থেকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। বিষয়বৈচিত্র্যের অপূর্ব সম্ভার তাঁর কবিতা; যেখানে একদিকে রয়েছে প্রেম, বিরহ, বেদনা, স্মৃতিকাতরতা, উচ্ছ্বাস, আবেগের বহিঃপ্রকাশ আর অন্যদিকে বিস্তৃত হয়েছে সমাজবাস্তবতা, পুরাণ, প্রকৃতি, ইতিহাস, দর্শন। এই সবকিছুর অসাধারণ সংমিশ্রণ তাঁর কবিতাকে করে তুলেছে ভিন্নমাত্রিক। এই সংখ্যায় তাঁর কবিতার বিষয় সম্পর্কে লিখেছেন—আনিসুজ্জামান, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, রূপা চক্রবর্তী, অবদুল্লাহ আল মাসুম, ফখরুল ইসলাম হারুন প্রমুখ। তাঁরা কবির কবিতার বৈষয়িক বৈচিত্র্যের ছবি এমনভাবে এঁকেছেন—যেখানে কবিকে তাঁর নিজ বৈশিষ্ট্যে পৃথক করা সম্ভব। কবি মারুফুল ইসলাম কেবল বিষয়ে নয়, আঙ্গিকগত দিক থেকেও তাঁর কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি কাজ করেছেন কবিতার গঠন নিয়ে, ছন্দ নিয়ে খেলেছেন, শব্দ আর বর্ণ নিয়ে করেছেন নিরীক্ষা, বাক্যকে দিয়েছেন নতুন মাত্রা। তাঁর কবিতার আঙ্গিকগত কলাকৌশল বাংলা কাব্যজগতে নতুনত্বের দ্বার উন্মোচন করেছে। এই সংখ্যায় ফরিদ কবির, জয়দুল হোসেন, হারুন পাশা, নাজিয়া ফেরদৌস প্রমুখের লেখায় সেসব পরিচয় স্পষ্ট। কবির নির্দিষ্ট কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেছেন লাবিদ হাসান, মানিকরতন শর্মা, সুলতানা রাজিয়া, মামুন আব্দুল্লাহ, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। কবি মারুফুল একজন সার্থক ছড়াকারও বটে। ছড়ার লালিত্য, সাবলীলতা, সরসতা আর বৈষয়িক বৈচিত্র্য একজন ছড়াকারকে বিশেষ করে তোলে। কবি মারুফুলও এর ব্যতিক্রম নন। তাঁর ছড়া ছোটদের জন্য তৈরি করেছে একটি আনন্দের জগত্। তাঁর সাধারণ ছড়ার বইগুলির আলোচনা পাওয়া যাবে এই সংখ্যায়। এখানে তুষার দাশ, হামিদ কায়সার, আসলাম সানী, হুমাযুন কবীর ঢালী, রওশন নাঈম প্রমুখ তাঁর বিভিন্ন ছড়ার বই নিয়ে চমত্কার আলোচনা করেছেন। একজন মানুষের মধ্যে বিচিত্র গুণের মিশ্রণ খুব কমই দেখতে পাওয়া যায়। কবি মারুফুল ইসলামের মধ্যে রয়েছে তারই প্রকাশ। তিনি কবি, ছড়াকারের পাশাপাশি একজন গীতিকার। নিজের অনুভূতি থেকে সৃষ্ট বলেই তাঁর গানগুলো ভিন্নধারার। জীবনদর্শন, প্রেম, দেশাত্মবোধ তাঁর গানে প্রাণ সঞ্চার করে। এই সংখ্যায় তাঁর এই অসাধারণ প্রতিভা নিয়ে আলোচনা করেছেন ফরিদ আহমেদ এবং সজল আহমেদ।

এই সংখ্যাটিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে ব্যক্তি মারুফুল ইসলামকে নিয়ে লেখা আলোচনাগুলো। একজন কবির ব্যক্তিগত জীবনের পরিচয় যে কতটা আকর্ষণীয় হতে পারে তা এই আলোচনাগুলো পড়লেই বোঝা যায়। কবিপত্নী রিয়া মারুফও লিখেছেন কবিকে নিয়ে। একজন কবি একজন স্বামী, পিতা, পুত্র, ভাই হয়ে কীভাবে নিজ দায়িত্বে অবিচল থাকতে পারেন তা এই লেখায় ধরা পড়েছে। আরো লিখেছেন—সুরাইয়া হালিম, মজিবুর রহমান স্বপন, কাজী ঝুনু, ইরাজ আহমেদ, আনিস মুহাম্মদ, সাইফ খোকন প্রমুখ। একজন কবি কীভাবে মানুষ হিসেবেও অন্যের অন্তরে স্থান করে নিতে পারেন পলাশ মাহবুবের লেখায় তার প্রকাশ দেখা যায়। কবির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ ঘটেছে এই সংখ্যায় সংযুক্ত সাজ্জাদ আরেফিন, রহীম শাহ এবং মাহমুদউল্লাহর কবিতা ও ছড়ার মাধ্যমে।

 

সংখ্যার শেষের দিকে যুক্ত করা হয়েছে কবির বিশেষ কিছু কবিতা ও গান। সেইসাথে কবির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। সবমিলিয়ে সংখ্যাটি পাঠককে কবি মারুফুল ইসলাম সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা দিতে সক্ষম। অন্যান্য সংখ্যার মতোই এই সংখ্যাটিও অনন্য। পাঠকের আদর পাবে।