চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে অসাধারণ এক জয়ের পর দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গেছে টাইগারদের। এই আত্মবিশ্বাস পূঁজি করেই ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টে ক্যারিবিয়ানদের মুখোমুখি হতে চান সাকিব আল হাসান। গতকাল ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমন আশার কথাই শোনালেন অধিনায়ক।
সাকিব বললেন, ‘টেস্ট জয়ের আনন্দটাই আলাদা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট জিততে পেরে খুব ভাল লাগছে। দ্রুততম সময়ে ৩ হাজার রান ও ২০০ উইকেট পেয়ে যেমন আনন্দিত হয়েছি, তার চেয়েও বেশি আনন্দ পেয়েছি দল জিতেছে বলে। দল যদি না জিততো তাহলে ২০০ উইকেটের আনন্দটা থাকতো না। জিতেছি বলেই অনুভূতিটা অনেক ভাল। পুরো দল ভাল খেলেছে। দল যখন একটা ম্যাচ জেতে তখন দলের সবার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। আশা করি এটা ধরে রাখা যাবে। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আমরা দ্বিতীয় টেস্ট খেলবো।’
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট কোনটা ছিল জানতে চাইলে সাকিব বলেন, ‘টার্নিং পয়েন্ট আসলে অনেকগুলো। ছোট ছোট জিনিসগুলোই আসলে অনেক বড় টার্নিং পয়েন্ট হয়ে যায়। সেটা ওদের ক্ষেত্রেও যেমন, আমাদের বেলায়ও তেমন। ছোট ছোট কিছু পার্টনারশিপ হয়েছে যা আমাদের জয়ে অনেক সাহায্য করেছে। বড় দিক থেকে বলতে গেলে, প্রথম ইনিংসে আমাদের ব্যাটিংটাকেই বলতে হবে। যে রান আমরা করেছি, সেটা বড় এডভান্টেজ ছিল। যদিও আমার ধারণা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংটা আরেকটু ভালো করতে পারতাম। কিন্তু এধরনের উইকেটে এরকম হতেই পারে। ওই সম্পর্কে আমরা সজাগ ছিলাম। প্রথমে উইকেট দেখার পরেই ধারণা করেছিলাম খেলাটা এমনই হবে, হাই স্কোরিং ম্যাচ হবে না।’
ঢাকা টেস্টের আগে যে কয়টা দিন সময় আছে নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে চান সাকিব। বলেন, ‘চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টের আগে আমি মাত্র তিনটা সেশন ব্যাটিং করেছি। দুই মাস পরে এসে কোনো ফিটনেসের কাজ না করে এই সংক্ষিপ্ত ব্যাটিং সেশন ছিল খুবই সামান্য। আমার জন্য খুবই কঠিন কাজ ছিল। তবে আলহামদুলিল্লাহ যে ভালভাবে ম্যাচটা শেষ করতে পেরেছি। আমি নিশ্চিত যে দ্বিতীয় ম্যাচটা আমি আরো বেটার অবস্থায় খেলতে পারব।’
ওপেনিং ব্যাটসম্যান নিয়ে দুঃশ্চিন্তা আছে কিনা এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘হ্যাঁ, প্রতিদিনই আমাদের ১০ রানে ২ উইকেট চলে যাওয়াটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। এটা আমাদের জন্য একটু এলার্মিং। তবে আশা করি দ্বিতীয় টেস্টে তামিম ইকবাল ফিট হয়ে যাবে। তাহলে কিছুটা হলে ওপেনিংয়ে আমাদের ভরসার জায়গা তৈরি হবে।’
টাইগার স্পিনারদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে সাকিব বলেন, ‘আমাদের যে ক’জন স্পিনার আছে সবাই কোয়ালিটি স্পিনার। বিশেষ করে উইকেটে যদি হেল্প থাকে। একদমই যদি হেল্প না থাকে তাহলে হয়তো আমাদের বোলারদের অতটা কার্যকরী মনে হবে না। হেল্প পেলে তারা অনেক ভাল করবে। তবে একটা জিনিস মনে হয়, আমাদের ওভারঅল উন্নতি করতে হবে। সেটা হচ্ছে গেম সেন্সটা থাকা উচিত। কোন সিচুয়েশনে কি করতে হবে।’
অভিষেক ম্যাচে নাঈমকে কেমন দেখলেন—জানতে চাইলে অধিনায়ক বলেন, ‘অভিষেক ম্যাচ হিসেবে প্রথম ম্যাচে নাঈম অসাধারণ বল করেছে। আজকে থেকে গতকাল উইকেটে হেল্প কম ছিল। ওই অবস্থাতেই সে ৫ উইকেট পেয়েছে। আমি মনে করি ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যত আছে। তবে ওকে টেস্টে আরো কিছু বিষয় শিখতে হতে পারে। তবে একটা বিষয় বলবো যে নাঈম খুবই সাহসী ক্রিকেটার।’
স্কো র কা র্ড
বাংলাদেশ-১ম ইনিংস: ৯২.৪ ওভারে ৩২৪/১০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-১ম ইনিংস: ৬৪ ওভারে ২৪৬/১০
বাংলাদেশ-২য় ইনিংস
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
মুশফিক ব গ্যাব্রিয়েল ১৯ ৩৯ ১ ০
মিরাজ ক ডওরিচ ব বিশু ১৮ ৩৫ ৩ ০
মাহমুদউল্লাহ ক হোপ ব বিশু ৩১ ৪৬ ১ ১
নাঈম ক হোপ ব বিশু ৫ ২৭ ০ ০
তাইজুল ক ওয়ারিকান ব চেজ ১ ৫ ০ ০
মুস্তাফিজ অপরাজিত ২ ৩ ০ ০
অতিরিক্ত (বা-২, লেবা-১, নো-৩) ৬
মোট: ৩৫.৫ ওভারে ১২৫/১০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলিং:
রোচ ১-০-১১-০, ওয়ারিকান ১৬-২-৪৩-২, চেজ ৬.৫-১-১৮-৩, বিশু ৯-০-২৬-৪, গ্যাব্রিয়েল ৩-০-২৪-১
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-২য় ইনিংস
ব্রাথহোয়াইট এলবিডব্লু তাইজুল ৮ ২৩ ০ ০
পাওয়েল স্ট্যা. মুশফিক ব সাকিব ০ ১ ০ ০
হোপ ক মুশফিক ব সাকিব ৩ ৬ ০ ০
অ্যাম্ব্রিস ক মুশফিক ব তাইজুল ৪৩ ৬২ ৪ ০
চেজ এলবিডব্লু তাইজুল ০ ৪ ০ ০
হেটমেয়ার ক নাঈম ব মিরাজ ২৭ ১৯ ৩ ১
ডওরিচ এলবিডব্লু তাইজুল ৫ ১৪ ০ ০
বিশু ব তাইজুল ২ ২১ ০ ০
রোচ এলবিডব্লু তাইজুল ১ ৭ ০ ০
ওয়ারিকান ক সাকিব ব মিরাজ ৪১ ৪৭ ৩ ১
গ্যাব্রিয়েল অপরাজিত ০ ০ ০ ০
অতিরিক্ত (বা-৯) ৯
মোট: ৩৫.২ ওভারে ১৩৯/১০
বাংলাদেশ বোলিং:
সাকিব ৭-০-৩০-২, নাঈম ৭-১-২৯-০, তাইজুল ১১.২-২-৩৩-৬, মিরাজ ৮-১-২৭-২, মুস্তাফিজ ২-০-১১-০
ফল: বাংলাদেশ ৬৪ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মুমিনুল হক
