নলছিটি উপজেলার রাজাকার ও তার সন্তানরা এখনও রয়েছে বহাল তবিয়তে। অন্যদিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শত শত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার অভাব, অনটনে দিন যাপন করছেন। চিকিত্সার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন অনেকে মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়-সম্বল হারিয়ে পথে বসেছিলেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীতাকারী পাকিস্তানি দালাল আল-বদর, রাজাকার ও তার সন্তানরা বহাল তবিলয়তে আছেন। তারা এবং তাদের সন্তানরা বীরদর্পে ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন জনপদে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত রয়েছে। এরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি করছে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সন্তানরা উপেক্ষিত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অর্থাভাবে সংসার চলে না উপজেলার পাওতা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা এছাহাক উদ্দিন খলিফা, দেলদুয়ার গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম, কুলকাঠি গ্রামের মকবুল হোসেন, বিহঙ্গল গ্রামের মকবুল হোসেনসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধার।
এছাড়া চিকিত্সার অভাবে অনেক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর নলছিটি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের থানায় ধরে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হতো। তাদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, নারী নির্যাতনের মামলা দেওয়া হতো। নলছিটি থানার জাম্বুল গাছটি তার জ্বলন্ত সাক্ষী। সেই গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে বেদম মারপিট করা হতো প্রকাশ্যে। নলছিটি উপজেলার যুদ্ধকালীন কমান্ডার মো. সেকান্দার আলী মিয়া জানান, রাজাকারদের তালিকা প্রণয়ন করে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন কারণে বাস্তবসম্মত কাজ করা সম্ভব হয় না। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। তিনি তার বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছেন।
ইত্তেফাক/নূহু
