রাউজানে মহামুনি বিহারে কাল শুরু হচ্ছে মেলা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৪

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের মহামুনি গ্রামে দু’শ বছরের প্রাচীন মহামুনি বিহারে কাল শনিবার চৈত্র সংক্রান্তির মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে মিলন মেলা। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বুদ্ধের কৃপা নিতে দূরদূরান্ত থেকে উত্সব প্রাঙ্গণে আসবেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন। বৌদ্ধ ধর্মীয় সংস্কৃতিতে মেলার আয়োজন হলেও এই উত্সব নিয়ে এই অঞ্চলের অন্য ধর্মাবলম্বীদের আগ্রহের কমতি নেই। মেলায় চৈত্র সংক্রান্তিতে বর্ষ বিদায় ও পয়লা বৈশাখে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সমপ্রদায় ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর পরিবেশনায় থাকছে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজন।

মহামুনি মেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও বিহারাধ্যক্ষ ধর্মসেনাপতি রাজগুরু অভয়ানন্দ মহাথের ইত্তেফাককে বলেন, মহামুনি বুদ্ধের কৃপা নিতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন প্রতিবছর এখানে আসেন। উল্লেখযোগ্য হলো মারমা, চাকমা, মগ, ত্রিপুরা, তংচঙ্গা ইত্যাদি সম্প্রদায়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর লোকজন বিহারে বুদ্ধের উপাসনা, সংঘদান এবং চাইঙ্গা ঠাকুর মহাথের উদ্যানে অবস্থান নিয়ে নানা উত্সব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নেন। পরের দিন ভোর হতে তারা উত্সব প্রাঙ্গণ ত্যাগ করবেন। এবারের মেলায় দশ হাজারেরও অধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ বুদ্ধের কৃপা নিতে আসবেন বলে তিনি ধারণা পোষণ করেন।

সকাল ১০টায় মহামুনি বটমূল খ্যাত ফনিতটি মঞ্চে থাকবে স্থানীয় সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় মুক্তাঙ্গন অনুষ্ঠান। একই স্থানে পর্যায়ক্রমে চলতে থাকবে স্থানীয় সংগঠনগুলোর বৃত্তি প্রদান, গুণিজন ও কৃতী সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, সংগীতানুষ্ঠান, নাটক, মূকাভিনয়সহ নানা কর্মসূচি।

গত বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে মেলা প্রাঙ্গণে মণ্ডপ স্থাপনের কাজ চলছে। মূল মন্দিরসহ চাইঙ্গা ঠাকুর মহাথের উদ্যানে স্থাপিত অষ্টাবিংশ বুদ্ধ মূর্তিগুলো নানা রঙে সজ্জিত করা হয়েছে। ফনিতটি মঞ্চকে বৈশাখী ঢঙে সজ্জিত করছেন কারুশিল্পীরা।

মেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে মেলা উদযাপন পরিষদের সচিব ও স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, মেলার সকল প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করেছি।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেফায়েত উল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, মেলা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তার বেষ্টনী তৈরি করা হবে। মেলায় কোনো ধরনের মাদকের আসর চলতে দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, চাইঙ্গা ঠাকুর নামের এক বৌদ্ধধর্মীয় গুরু এই বিহারে ১৮০৫ মতান্তরে ১৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে মহামুনি অর্থাত্ গৌতম বুদ্ধের মূর্তি স্থাপিত হয়েছে বলে এর নামকরণ করা মহামুনি মন্দির।