বনাঞ্চলে নির্বিচারে অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৯

পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ে-পাহাড়ে জুম চাষের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী ও জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার উপজাতীয় পরিবার পাহাড়ে জুমচাষের জন্য মাঠ তৈরিতে এখন ভীষণ ব্যস্ত। পাহাড় চূড়া থেকে পাদদেশ পর্যন্ত জুম চাষের জন্য উপযোগী করে তুলতে নির্বিচার অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে বনাঞ্চলে। জুমের আগুনে গাছপালা ও লতাপাতা পুড়ে পাহাড়ের পর পাহাড় ন্যাড়া হয়ে পড়ায় প্রতিবছর বর্ষায় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে পাহাড় ধস। প্রাপ্ত এক হিসাবে দেখা যায়, প্রতি বছর পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার আটটি উপজেলায় অন্তত ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর পাহাড়ি এলাকায় ধান, জব, ভুট্টা, তিল, কাকন চাউল, হলুদ, আদা, ছড়াকচুসহ নানা জাতের মৌসুমি শাক-সবজির চাষ হয়ে থাকে।

জানা যায়, পাহাড়িরা প্রতি মৌসুমে ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাসে জুম চাষের জন্য নির্বাচিত পাহাড়ে আগুন লাগায়। এ ৩ মাস প্রকৃতি শুষ্ক থাকায় আগুন এক জায়গায় জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশাল এলাকা জুড়ে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, তিন পার্বত্য জেলায় দেড়শ বছর ধরে পাহাড়িরা ঐতিহ্যগতভাবে জুম চাষ করে আসলেও বর্তমানে উপজাতীয়দের পাশাপাশি পুনর্বাসিত বাঙালিরাও মহালছড়ি, মানিকছড়ি, পানছড়ি, দীঘিনালা, মাটিরাঙ্গা, লক্ষীছড়ি ও রামগড়ে পাহাড়ের চূড়ায় ও ঢালুতে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রিপুরা উপজাতীয় গবেষক মথুরালাল ত্রিপুরা ইত্তেফাকের এ প্রতিনিধিকে বলেন, জুম চাষ এ অঞ্চলের মানুষের নির্ভরশীল ও অবলম্বন হলেও সরকার জুমচাষকে পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষিব্যবস্থা হিসেবে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি। মথুরালাল ত্রিপুরা জুমচাষকে সরকারের কৃষি ভর্তুকির আওতায় এনে পরিবেশ উপযোগী চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে জুমিয়াদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়া এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি সরকারি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম রহমান বলেন, জুম চাষের জন্য প্রতিবছর পাহাড়ে আগুন দিয়ে নির্বিচার বন ধ্বংসের কারণে এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী এ চাষ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য জুম চাষিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিকল্প টেকনোলজিতে জুম চাষে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।