সুইডেনের স্টকহোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস গতকাল শনিবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। বিজয়ের ৪৬ বছর উদযাপন উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখ সন্ধ্যায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে এক আলোচনা অনুষ্ঠান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সুইডিশ ও অন্যান্য দেশীয় অতিথি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ সপরিবারে উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার সন্ধ্যায় পবিত্র গ্রন্থসমূহ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অতঃপর উপস্থিত অতিথি, শিল্পীবৃন্দ এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে-সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতা, স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী ত্রিশ লাখ শহীদ, মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও ৭৫-এর ১৫ আগস্টে নির্মমভাবে নিহত শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ। এরপর উপস্থিত অতিথিগণ দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত প্রতীকী জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্প অর্পণ করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে সুইডেনে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব মো. নাজমুল ইসলাম তার বক্তব্যের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী ৩০ লাখ শহীদ, মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো ২ লাখ মা-বোন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করে মান্যবর রাষ্ট্রদূত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃতে বাংলাদেশের অর্জিত উত্তরোত্তর সাফল্য ও আর্থসামাজিক উন্নয়নগুলো তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ থেকে হাজার মাইল দূরে বসবাস করেও বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি ঐতিহ্য তুলে ধরায় এই অঞ্চলে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রশংসা করেন এবং জাতির পিতার 'সোনার বাংলা' অর্জনের লক্ষ্যে সমবেত সকলের প্রতি আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের স্বার্থ-সংরক্ষণ ও ভাবমূর্তি সমুন্নত করার লক্ষ্যে দূতাবাসের সকলের নিরলস প্রচেষ্টার কথা তিনি উল্লেখ করেন। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও ৭৫-এর ১৫ আগস্টে নির্মমভাবে নিহত শহীদদের স্মরণে এবং দেশ ও জাতির উত্তরোত্তর উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
পরে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যেখানে দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, তাদের পরিবার এবং সুইডেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেশি-বিদেশি অতিথিরা এ সকল আয়োজন উপভোগ করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে দূতাবাস কর্তৃক দেশীয় খাবার পরিবেশনার মাধ্যমে উপস্থিত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।
ইত্তেফাক/জামান
