গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করার জন্য যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুত্ উত্পাদন ব্যয় ৯৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়ে যাবে। একইসঙ্গে টেক্সটাইল, সিমেন্ট ও স্টিল খাতে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ০৬ শতাংশ, এক দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ উত্পাদন ব্যয় বাড়বে। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত “জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ : শিল্পখাতে এর প্রভাব” শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়।
ডিসিসিআইয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিদ্যুত্ বিভাগের প্রাক্তন সচিব ড. এম ফওজুল কবির খান। মূল প্রবন্ধে অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, এলপিজি ব্যবহারকে উত্সাহিত করা এবং পিক ও অফপিক সময়ে আলাদা ট্যারিফ প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে পেট্রোবাংলা এবং অন্যান্য গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ গ্যাসের ক্ষেত্রে গড়ে ১০২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবনা করে। এর মধ্যে ১৩২ শতাংশ শিল্পখাতে, ক্যাপটিভ পাওয়ারের জন্য ৯৬ শতাংশ এবং বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য ২০৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবনা করা হয়। তিনি বলেন, শিল্প উত্পাদন অব্যাহত রাখতে অধিকতর চাপ সম্পন্ন গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত মূল্য বৃদ্ধির হার কার্যকর হলে শিল্পখাতের উত্পাদন খরচ বাড়বে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৯ সাল থেকেই গ্যাস ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং এজন্য গ্যাস ব্যবস্থাপনার একটি মহাপরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০০ এমএমসিএফডি, উত্পাদন হচ্ছে ২৭০০ এমএমসিএফডি গ্যাস এবং দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৩৪০০ এমএমসিএফডি গ্যাস। তিনি বলেন, বর্তমানে নিজস্ব গ্যাসে উত্পাদিত বিদ্যুতের উত্পাদন খরচ ইউনিটপ্রতি ২ দশমিক ৫৭ টাকা। নিজস্ব কয়লা দিয়ে উত্পাদিত বিদ্যুতের জন্য খরচ পড়বে ৬ টাকা, অন্যদিকে আমদানিকৃত কয়লা দিয়ে উত্পাদন করা বিদ্যুতের খরচ পড়ছে ইউনিটপ্রতি ৮দশমিক ১০ টাকা। গ্যাস যেহেতু প্রাকৃতিক সম্পদ, কাজেই এর যথাযথ এবং পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। গ্যাস এবং বিদ্যুত্ খাতে সরকার বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি দেয়, অথচ এই দুই খাতে অপরিশোধিত বিলের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। কাজেই এই বকেয়া বিল পরিশোধ করা খুবই জরুরি। তিনি বলেন, ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিচ্ছিন্ন স্থানে শিল্প কারখানা স্থাপন না করে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে শিল্প-কারখানা স্থাপন ও স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে সরকার নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন অংশগ্রহণ করেন।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, বিটিএমএ’র অন্তর্ভুক্ত ৫৮৫টি টেক্সটাইল মিল ক্যাপটিভ পাওয়ার স্টেশনের মাধ্যমে ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদান করছে, যাতে ব্যয় হচ্ছে ৩০-৩৫ কোটি টাকা। টেক্সটাইল খাতকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি না করার দাবি জানান তিনি।
সেমিনারে ডিসিসিআই সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক নূহের লতিফ খান, ইঞ্জি. মো. আল আমিন, শামস মাহমুদ, দ্বীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন, এস এম জিল্লুর রহমান, প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, প্রাক্তন সহ-সভাপতি এম আবু হোরায়রাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
