এসডিজির অর্থায়নসহ গুরুত্ব পাচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যু

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৫৪

ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভায় এবার গুরুত্ব পাচ্ছে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে অর্থায়ন প্রসঙ্গ। এজন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এবারের বসন্তকালীন সভায় সাড়ে ৩শ’ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা অংশ নিয়েছেন। সভায় বাংলাদেশের সামপ্রতিক অর্থনৈতিক অর্জন এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে বেসরকারি খাতের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। স্থানীয় সময় শুক্রবার ১২ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্বব্যাংকে নিযুক্ত বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, এসডিজি অর্জনে বেসরকারি বিনিয়োগের বড় ভূমিকা রয়েছে। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন যার উল্লেখযোগ্য অংশ আসবে বেসরকারি খাত হতে। সভায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ করে এসডিজি অর্জনে বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।

উল্লেখ্য, এসডিজির লক্ষ্যগুলো অর্জনে বাংলাদেশে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করতে হবে ৯২৮ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭৬ লাখ ১৩ কোটি টাকা। ২০১৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতকেই এতে চালকের আসনে থাকতে হবে। এ খাত থেকে বিনিয়োগ আসতে হবে ৪২ দশমিক ০৯ শতাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি বড় অঙ্কের বেসরকারি বিনিয়োগ (এফডিআই) পেতে হবে বাংলাদেশকে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সমস্যাসহ পাঁচ ইস্যু তুলে ধরা হবে বসন্তকালীন বৈঠকে। বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত এই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরানোর উদ্যোগসহ মানবিক সহায়তা দানের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এর আগে গত অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরেছিল। ওই সময় বিশ্বব্যাপী সহায়তার আশ্বাসও পাওয়া গেছে। এবার বসন্তকালীন বৈঠকে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হবে যাতে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সমর্থন পাওয়া যায়। এছাড়াও বসন্তকালীন এই সভায় গুরুত্ব পাবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে টেকসই উন্নয়নের ঝুঁকি, দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়ন, সার্বিক স্বাস্থ্য সেবা এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থায়ন প্রসঙ্গ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ সমপ্রতি তাদের পূর্বাভাসে বলেছে ২০১৯ এবং ২০২০ সালে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কমবে বিগত বছরগুলোর তুলনায়। এই মুহূর্তে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিচের দিকে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বসন্তকালীন বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ, উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের অবস্থান, বেসরকারি অর্থায়নে বিনিয়োগের ইস্যুগুলো তুলে ধরা হবে।