‘স্বপ্ন দেখাটা বন্ধ করো না’

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০০

জীবনে স্বপ্ন না দেখলে বড় হওয়া যায় না। স্বপ্ন দেখে সেটা বাস্তবতায় রূপ দিতে পরিশ্রম করতে হয়। বিনা পরিশ্রমে কিছু করা যায় না। অন্তত আর যাই হোক সাফল্য পাওয়া যায় না। পরিশ্রমে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে হবে। ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে। এসব কথা নানা ভাবে উঠে এলো নারী বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলা এবং অলিম্পিক ফুটবলে খেলা দুই ক্রীড়াবিদ জেসিকা হার্টাডো এবং ক্যাথেরিন ফোবিওয়ালার কণ্ঠে। এই দুজন বাংলাদেশে এসেছেন তিন দিনের সফরে। তাদের লক্ষ্য ২২ এপ্রিল ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের উত্সাহ দেয়া। প্রেরণা দেয়া। নিজেরা কীভাবে পরিশ্রম করে বড় হয়েছেন। আজ বিশ্ব নারী ফুটবলে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন তা জানাবেন বাংলাদেশের আগামীর ফুটবলারদের। বাফুফে ভবনে দুজনেই গিয়েছিলেন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে। নারী ফুটবলে কতো বাধার কথা শুনেছেন। ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে অনেকের প্রতিভা অংকুরেই বিনষ্ট হয়েছে।

জেসিকা এবং ক্যাথেরিন দুজনই ২০১৫ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত মহিলা বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলেছেন। অলিম্পিক গেমস ফুটবলেও খেলেছেন এই দুজন। জেসিকা ফুটবল ছেড়ে দিয়ে আরব আমিরাতের ফুটবল উন্নয়নে সেখানে কাজ করছেন। আর ক্যাথেরিন এখনও খেলছেন।

বাংলাদেশের মনিকা, মারিয়া, সানজিদা, তহুরা, রূপনা চাকমাদের উদ্দেশ্যে জেসিকা বললেন, ‘স্বপ্ন দেখাটা বন্ধ করো না। স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। সাহস রাখতে হবে। সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। নারীর কাজে অনেক বাধা আসে সেই বাধা জয় করতে হবে। যারা ফুটবল খেলছে তারা মাঠের লড়াই নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়ে নিজেদের অবস্থান আরো উন্নত করতে পারে।’ এসব কথা নানা প্রসঙ্গে উঠে আসে। জেসিকা এখন আরব আমিরাতের ফুটবল দূত হিসেবে কাজ করছেন।

বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক ফুটবলের স্বত্বক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান কে-স্পোর্টস জেসিকার সঙ্গে যোগাযোগ করলে জেসিকা ক্যাথেরিনকে নিয়ে আসে। কে-স্পোর্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহাদ করিম বলছিলেন, ‘একদিকে বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের চাঙ্গা করা, অন্য দিকে বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রচারণায় অংশ নেবেন কলম্বিয়ান এই দুই ফুটবলার।’ তিন দিনের কার্যক্রমে বেশ ব্যস্তই থাকবেন জেসিকা হার্টাডো এবং ক্যাথেরিন। আজ তারা বাড্ডার বেরাইদে ফর্টিস বাফুফে একাডেমিতে যাবেন। সেখানে বিকেএসপির খেলোয়াড়রা থাকবেন, শিক্ষার্থীরা থাকবেন এবং নানা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। শনিবার বাফুফের টার্ফে বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের সঙ্গে সময় কাটাবেন।