শামীম হামিদ, চট্টগ্রাম অফিস
সাত বছর আগের কথা। ২০১১ বিশ্বকাপে চট্টগ্রাম ভেন্যুতে দুটি ম্যাচ ছিল টাইগারদের। ঢাকায় জয়ের দেখা না পেলেও চট্টগ্রামের দুটি ম্যাচেই কিন্তু জয় পেয়েছিল তারা। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২ উইকেটে এবং নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারায় টাইগাররা। বিশ্বকাপের দুই জয় তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ ড্র ও একদিনের ম্যাচে জয়ের পর থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে আলাদা পরিচিতি পেতে শুরু করে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। ক্রিকেটপ্রেমীরা এই মাঠকে বাংলাদেশের জন্য ‘পয়মন্ত’ মাঠ বলে ডাকতে শুরু করেন। যদিও ২০১১ সালের আগেও এই মাঠে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম যে বাংলাদেশ দলের ‘লাকি গ্রাউন্ড’ তা পরিসংখ্যানেই প্রমাণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে ওয়ানডে ম্যাচে এখানে টাইগারদের রয়েছে দুর্দান্ত সাফল্য। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজ পর্যন্ত এই ভেন্যুতে যে ২১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে টিম বাংলাদেশ, তারমধ্যে ১২টিতেই জিতেছে তারা। হেরেছে সাতটিতে এবং দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। এই মাঠে সর্বশেষ ১১টি ওডিআই ম্যাচের মধ্যে নয়টিতেই জয়ী টাইগাররা। বিশ্বের আর কোনো ভেন্যুতে টাইগারদের এমন ঈর্ষণীয় সাফল্য নেই। এবার সেই মাঠে এলো এক অসাধারণ টেস্ট জয়ও।
চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে কখনোই হারেনি বাংলাদেশ। ২০০৯ সালের ৩ নভেম্বর এই ভেন্যুতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি ৬ উইকেটে জিতে নেয় টাইগাররা। দুই দিন পর একই ভেন্যুতে তাদের বিপক্ষে ১ উইকেটের জয় তুলে নেয় স্বাগতিক দলটি। ২০১০ সালের ১০ ও ১২ ডিসেম্বর স্বাগতিক বাংলাদেশ ও সফরকারী জিম্বাবুয়ে দলের দুটি ওয়ানডে ম্যাচের আয়োজন করা হয় চট্টগ্রামের এই জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এর মধ্যে বৃষ্টির কারণে প্রথম ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলেও দ্বিতীয় ম্যাচটিতে ৬ উইকেটের জয় পায় তামিম-সাকিবরা। ২০১৪ সালের ২১ ও ২৩ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে বাংলাদেশ দুটি ওয়ানডে জিতে নেয় যথাক্রমে ৮৭ রান ও ৬৪ রানের ব্যবধানে। সর্বশেষ গত মাসে এই ভেন্যুতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে ম্যাচে দুটিতে সাত উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। এই ভেন্যুতে এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট জয় পেয়েছে টাইগাররা। গতকাল ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে জয়টি ছিল এই ভেন্যুতে দ্বিতীয় টেস্ট জয়।
এই ভেন্যুতে বাংলাদেশ দলের সাফল্যের পাশাপাশি ক্রিকেটারদেরও রয়েছে অনেক ব্যক্তিগত অর্জন। বিশেষ করে মুমিনুল হকের জন্য এটি সুপার লাকি গ্রাউন্ড। কারণ ক্যারিয়ারের ৮টি সেঞ্চুরির মধ্যে ৬টিই তিনি পেয়েছেন তার ঘরের মাঠ সাগরিকায়। বল হাতে এখানে অনেক সফলতার গল্প রয়েছে সাকিব, রাজ্জাক, সোহাগ গাজী এবং সর্বশেষ নাঈম হাসানের। ব্যক্তিগত অনেক রেকর্ড গড়েছেন তারা এই ভেন্যুতে। চট্টগ্রামের আরেক ছেলে নাঈম হাসানের টেস্ট অভিষেক হয়েছে ওয়েস্টইন্ডিজের বিরুদ্ধে এই ম্যাচেই। অভিষেকেই সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে ৫ উইকেট শিকার করে রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
