যমুনায় নাব্য সংকটের কারণে বগুড়া জেলার সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগ রক্ষাকারী গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার ৫০টি খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। খেয়াঘাটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই চারটি জেলার যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র চরে বসবাসকারী কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা তীরবর্তী বগুড়া, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, তেকানি, চুকাইনগর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সদর উপজেলা, চিলমারি, রৌমারি, রাজিবপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথই হচ্ছে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নৌ-রুট। নদীপথে উল্লিখিত এলাকার হাজার হাজার মানুষ আত্মীয়তা, চাকরি, ব্যবস্যা-বাণিজ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনে এই নৌ-রুটগুলোতে যাতায়াত করে থাকে। এক সময় তিস্তামুখ ঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট এবং বালাসি ঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত রেলওয়ে ফেরি স্টিমার নিয়মিত চলাচল করত। কিন্তু উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পলি ও বালি জমে ক্রমাগত নদী ভরাট, গতিপথ পরিবর্তন ও নৌ-রুট শুকিয়ে যাওয়ায় একের পর এক খেয়াঘাটগুলো বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিক সময়ে নদীপথে এক ঘাট থেকে অন্য ঘাট, এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে সহজেই যাতায়াত করা গেলেও শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে যাওয়ায় অসংখ্য চর জেগে উঠে। সৃষ্টি হয় অসংখ্য শাখা-প্রশাখা।
সারিয়াকান্দির যমুনার বাটির চর, শালুকা চর, কুড়িপাড়া চরের কৃষকরা তাদের উত্পাদিত ফসল এখন ঘোড়ার গাড়িতে করে শুকনো যমুনা পার হয়ে সারিয়াকান্দি হাটে এনে বিক্রি করছে। নাব্য সংকটের কারণে নদীর বাঁক ঘুরে বর্তমানে জামালপুরের গুঠাইল ও উলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা নৌকাগুলো বগুড়ার কালিতলা ঘাটে পৌঁছাতে আগের চেয়ে এক, দেড়ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। নদীর পানি কমে যাওয়ায় নৌকা তীরে ভিড়তে না পারায় কালিতলা ঘাট ৩ কিলোমিটার দূরত্বে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘাটের ইজারাদার সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘাট পারের মানুষের চলাচলের জন্য বালুচরে পানি ঢেলে রাস্তা সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু নৌ চলাচলে নানা সমস্যার কারণে আগের মতো মানুষ পারাপার হচ্ছে না।
বগুড়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, খেয়াঘাট সচল এবং মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নদীর ভেতর চ্যানেল কাটার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমোদন না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
