ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নেওয়ার সাতদিন পর নবজাতক ছেলেকে বদলে মেয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক দম্পতি। জন্মের পর নবজাতক অসুস্থ বলে তাকে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দম্পতির অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে। হাসপাতলের পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে সোমবার রাতে।
নবজাতকের মা-বাবার অভিযোগ গাইনি ওয়ার্ডের কর্মচারীরা ইচ্ছা করে নবজাতক বদলে ফেলেছে। নবজাতকের মায়ের নাম পাপিয়া আর বাবার নাম মনু মিয়া। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাদেকল্পা গ্রামে।
ওই দম্পতি ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, ১০ ডিসেম্বর বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে পাপিয়া ছেলে সন্তানের মা হন। জন্মের পরপর নবজাতক অসুস্থ বলে মাকে দুই নম্বর ওয়ার্ডে রেখে নবজাতককে নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। ওই ওয়ার্ডের নিয়ম অনুযায়ী নবজাতককে চিকিৎসার সময় কোন অভিভাবককে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। নবজাতকের মা-বাবা আর লিঙ্গ উল্লেখ করে একটি টোকেন দেওয়া হয়। অভিভাবকের প্রয়োজনে ওয়ার্ড কর্তৃপক্ষ বাবা মাকে ডেকে নেয়।
পাপিয়া ও মনু মিয়ার অভিযোগ, ১০ ডিসেম্বর বিকালে নবজাতকের জন্মের পর তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে নবজাতক ছেলে সন্তান। এরপর নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের একবারও ডাকা হয়নি। ১৭ ডিসেম্বর বিকালে মাকে ডাকা হলেও তিনি ওয়ার্ডে যান। ওয়ার্ডের কর্মচারীরা মাকে বলেন, একটি বাটিতে বুকের দুধ দিতে। তিনি বাটিতে বুকের দুধ দেন। গত ১৮ ডিসেম্বর দুপুরে নবজাতক সুস্থ বলে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। ওই সময় মা নবজাতককে দেখে সন্দেহ করেন। পরে তিনি যাচাই করে দেখেন যে নবজাতককে দেওয়া হচ্ছে সেটি মেয়ে। ওই দম্পতি মেয়ে নবজাতক নিতে না চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় চান। রাত ১০টার পর ছেলে নবজাতক না দেওয়া ওই দম্পতি বিষয়টি তাদের স্বজনদের জানান।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে গিয়ে ১০ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া নবজাতকের তালিকা দেখতে চাইলে বলা হয়, ওই দিনের তথ্য উপপরিচালক লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদারের কক্ষে নেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার বলেন, কোথায় কোন ভুল হতে পারে। আবার হাসপাতালের কেউ নবজাতক বদলও করতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। যদি এই ঘটনায় কেউ দোষী প্রমাণিত হয় তাহলেও তার শাস্তি হবে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি
