সাহসী আর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে মাফলার উড়িয়ে ট্রেন থামানো সেই দুই শিশু শিহাবুর রহমান ও লিটন আলীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নুর-উর রহমান ও জেলা প্রশাসক হেলাল মাহামুদ শরীফ বাঘা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে তাদের এ সংবর্ধনা দেন।
সকাল ১০ টায় বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজার সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার নুর-উর রহমান বলেন, 'দেশের সম্পদ রক্ষায় বাচ্চাদের মনে যে উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে তা প্রশংসনীয়। আমরা এই দুই শিশুকে ভাল কাজের সফলতা স্বরূপ সংবর্ধনা দিয়ে সকল শিশুর কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। আমি বিশ্বাস করি এদের মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।'
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- পশ্চিম রেলওয়ের বিভাগীয় কর্মকর্তা শওকত জামিল মোহসী, বাঘা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান, আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুজ্জামান সায়েদ ও মাফলার বীর (শিশু) শিহাব। উপস্থিত ছিলেন- উপজেলার সকল দফতরের প্রধান কর্মকর্তা, আড়ানী স্টেশন মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান নয়ন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিহাব-লিটনের বাবা-মা ও বাঘার সুধীজন। সব শেষে দুই শিশু শিহাব ও লিটনের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, নগদ ১০ হাজার টাকা, শীত বস্ত্র ও বই-খাতা তুলে দেন অতিথিরা।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার সকালে নিজ গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছিল আলোচিত ওই দুই শিশু শিহাব ও লিটন। এসময় তারা খেয়াল করলো একটি ট্রেন চলে যাওয়ার সময় বিকট শব্দ হয়। উৎসুক ওই দুই শিশু এগিয়ে গিয়ে দেখে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কিছুক্ষণ পর ওই একই লাইনে তারা আরো একটি ট্রেন আসতে দেখে। বুদ্ধি করে দু'জনেই রেল লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গলায় ঝুলানো লাল মাফলার উড়াতে থাকে। তাদের এ সংকেত দেখে ট্রেন থামিয়ে দেন চালক কে.এম মহিউদ্দিন।
সাহসী দুই শিশু রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানি ইউনিয়নের ঝিনা গ্রামের বাসিন্দা ও ঝিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। তাদের মধ্যে শিহাবুর (৬) গ্রামের সুমন আলীর ছেলে ও লিটন (৭) শহীদুল ইসলামের ছেলে। শিহাব প্রথম ও লিটন দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। রেলের জমিতে পরিবারের সঙ্গে তাদের বসবাস বলে জানা গেছে।
ইত্তেফাক/জামান
