প্রান্তিক নারী কৃষক ও উদ্যোক্তাদের পণ্যের বিক্রয় কেন্দ্র ‘আউড়ি’

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩১

যাত্রা শুরু করলো প্রান্তিক নারী কৃষক ও নারী উদ্যোক্তাদের উত্পাদিত পণ্যের বিক্রয় কেন্দ্র ‘আউড়ি’। ন্যায্য বাণিজ্যের অঙ্গীকার নিয়ে গ্রামীণ নারীরা জাতীয় পর্যায়ে সরাসরি তাদের পণ্য বিক্রয়ের সুযোগ পাবেন আউড়িতে। ক্রেতাদের জন্য ভেজাল ও বিষমুক্ত শাকসবজি, খাদ্য ও কৃষি পণ্য পাওয়া যাবে। আরো থাকছে হস্তশিল্প ও তাঁত শিল্পের পণ্য। কফি কর্নারে থাকছে গ্রামীণ খাবার। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে আউড়ি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গুলশান-১ এর ৮ নম্বর রোডে অবস্থিত এই বিক্রিয় কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন সমাজের বিভিন্ন খাতের গুণীজন। কৃষকদের সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় কৃষক মৈত্রী (কেকেএম)’ এই বিক্রয় কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে। এতে সহযোগিতা করছে একশনএইড বাংলাদেশ। আউড়ির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, কৃষিতে, উত্পাদনে এবং ব্যবসায় নারীর অবদান থাকলেও তার মূল্যায়ন নেই। নেই বাজার ব্যবস্থাপনায় তাদের উপস্থিতি। সে কারণে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা একদিকে ব্যবসা প্রসার করতে পারেন না, অন্যদিকে তার ক্ষমতায়নের পথ রুদ্ধ হয়। এজন্যই নারীবান্ধব বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের নারী কৃষকেরা পণ্য উত্পাদন করলেও বিক্রির সুযোগ পান না। আউড়িতে তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন। বাজার ব্যবস্থাপনা ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা আছে যারা তাদের পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এই জাতীয় বিক্রয় কেন্দ্র নারী উত্পাদকদের বাজারের মূলধারার ব্যবসার সাথে তাদের পণ্যগুলোর সংযোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নের পথ প্রসারিত হবে।

পরিচালক এবং অভিনেতা আফজাল হোসেন বলেন, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে চাই নারীর ক্ষমতায়ন, যেন নারীরা নিজেদের রক্ষা করতে পারে, সাবলম্বী করতে পারে। আউড়ি নারীদের পথ দেখাবে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে কৃষি ও অকৃষিভিত্তিক পণ্য উত্পাদনের সাথে নারীরা সরাসরিভাবে যুক্ত থেকে কাজ করে। কিন্তু জমি, উত্পাদিত পণ্য এবং উপার্জিত অর্থের উপর নারীর অধিকার থাকে না। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে এসকল অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমার বিশ্বাস আউড়ির মাধ্যমে ক্ষুদ্র নারী কৃষকরা সামনে এগিয়ে যাবেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আব্দুর নূর তুষার, অভিনেত্রী আফসানা মিমি প্রমুখ।