ইভটিজিং ও ছিনতাই ঠেকাতে মাঠে থাকবে বিশেষ টিম

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৩

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, বৈশাখী উত্সবকে কেন্দ্র করে নগরীতে কারো নিরাপত্তার শঙ্কা নেই। কেউ যদি কোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা করে তাহলে যাতে সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিহত  করা যায় সেজন্য আমরা  প্রস্তুত রয়েছি। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে পহেলা বৈশাখের নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার এসব কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে পুলিশের পক্ষ থেকে নানা ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশ মঙ্গল শোভাযাত্রায় থাকবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, থাকবে ছিনতাই ও ইভটিজিং  প্রতিরোধে বিশেষ টিম।

সোয়াত ঘিরে রাখবে মঙ্গল শোভাযাত্রা: সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মঙ্গল শোভাযাত্রা আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত টিম হিসেবে সোয়াত থাকবে মঙ্গল শোভাযাত্রার চারদিক ঘিরে। পথিমধ্যে কেউ শোভাযাত্রায় প্রবেশ করতে পারবে না। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া কেউ মুখোশ পরতে পারবে না। সোয়াতের সঙ্গে ডিবি পুলিশ, পোশাকধারী পুলিশ, চারুকলার টিম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেচ্ছাসেবীরা সহযোগী হিসেবে থাকবে। যারা অংশ নেবেন তাদের চারুকলা থেকেই প্রবেশ করতে হবে।

বাতাসা ও ফুল দিয়ে দর্শনার্থীদের বরণ: এবারও ডিএমপির পক্ষ থেকে বৈশাখে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের বাতাসা ও ফুল দিয়ে বরণ করা হবে। সেইসঙ্গে সুপেয় পানির বোতল সরবরাহ করা হবে। তবে এবার নতুন করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট দর্শনার্থীদের ফুল ও মিষ্টি জাতীয় বাতাসা দিয়ে বরণ করবে।

নিষিদ্ধ থাকবে ভুভুজেলা ও ধূমপান: পহেলা বৈশাখে পার্কে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের কেউ ভুভুজেলা বাজিয়ে বিরক্ত করতে পারবে না। এটা বিরক্তির সৃষ্টি করে মানুষকে। তাই এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে উত্সবস্থলে কেউ ধূমপান করতে পারবে না। ভুভুজেলা বাজানো ও ধূমপানকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছিনতাই ও ইভটিজিং প্রতিরোধে বিশেষ টিম: বৈশাখে বেড়াতে আসা নারী দর্শনার্থীদের কেউ যাতে ও ইভটিজিং ছিনতাই করতে না পারে সেজন্য পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করবে।

যেসব সড়ক বন্ধ থাকবে: বাংলামটর-রূপসী বাংলা-টিএসসি-দোয়েল চত্বর, ইন্টারকন্টিনেন্টাল-কাকরাইল-মত্স্য ভবন-কদম ফোয়ারা, মত্স্য ভবন-শাহবাগ-কাঁটাবন, পলাশী-শহীদ মিনার-দোয়েল চত্বর-হাইকোর্ট ক্রসিং, বকশী বাজার-শহীদ মিনার-দোয়েল চত্বর-হাইকোর্ট ক্রসিং, বকশী বাজার-শহীদ মিনার-টিএসসি, শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং-দোয়েল চত্বর ও নীলক্ষেত-টিএসসির সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। বিকল্প চলাচলের রুট হিসেবে মিরপুর রোড-সায়েন্স ল্যাবরেটরি-নিউ মার্কেট-আজিমপুর-বকশীবাজার- চানখাঁর পুল-গুলিস্তান, রাসেল স্কয়ার- সোনারগাঁও- রেইনবো- মগবাজার-মালিবাগ- রাজমণি- ইউবিএল- গুলিস্তান, মহাখালী- সাতরাস্তা- মগবাজার- কাকরাইল-রাজমণি- ইউবিএল- গুলিস্তান, ফার্মগেট- সোনারগাঁও- বাংলামটর- মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ-খিলগাঁও।

থাকবে ৮টি গেট এবং বন্ধ হবে বিকাল ৫টায়:  বৈশাখের অনুষ্ঠান ঘিরে রমনা পার্কে মোট ৮টি গেট থাকবে। এর মধ্যে একসঙ্গে তিনটি প্রবেশ ও বের হওয়া এবং দুটি বের হওয়ার গেট রয়েছে। কাকরাইল মসজিদ সংলগ্ন গেট, মত্স্যভবন গেট ও শিশু পার্কের বিপরীত গেট দিয়ে প্রবেশ ও বের হতে পারবে। শিখা চিরন্তন বরাবর একটি নতুন গেট দিয়ে শুধু বের হতে পারবে। হেয়ার রোডের গেট ও রূপসী বাংলার কাছাকাছি গেট দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। রমনা রেস্টুরেন্ট কাছাকাছি যে দুটি গেট রয়েছে সেটির একটি দিয়ে প্রবেশ ও একটি দিয়ে বের হতে পারবে। অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোট ৭টি গেট থাকবে। এর মধ্যে ছবির হাট ও রমনা কালি মন্দির গেট বন্ধ থাকবে। বাকি গেটগুলোর মধ্যে তিনটি দিয়ে প্রবেশ ও দুটি দিয়ে বের হতে পারবে। বিকাল ৫টার মধ্যে দর্শনার্থী  প্রবেশের সব গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সবাইকে বের হতে হবে।