জলরং-এর শিল্প সফর

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৫

ছোট ছোট টিলার গায়ে চায়ের বাগান দেখে মনে হয় যেন উঁচু থেকে জলপ্রপাতের ধারা নেমে এসে বয়ে চলে গেছে দূরে। তার মাঝ দিয়ে সরু পয়ে চলা পথ। এঁকেবেঁকে চলে গেছে কোথায় কে জানে। চৈত্রের খরতাপ নেই। বরং চারপাশে স্নিগ্ধ আলো-ছায়ার খেলা। আকাশ এই মেঘে কালো হচ্ছে তো একটু পরেই রোদ ঝলমলে। সিলেটের প্রকৃতি সবসময়ই খেয়ালি। বাংলার চিরায়ত সমতল প্রকৃতির চাইতে ভিন্ন। প্রকৃতির এই বৈচিত্রময়তার ছোঁয়া শিল্পীদের ক্যানভাসেও। হবিগঞ্জের প্যালেস রিসোর্টে গ্যালারি কায়ার আয়োজনে হয়ে গেল জলরং-এর শিল্প সফর ।

জল রং অনেকটা কবিতার মত। শিল্পীর তীব্র অনুভূতির তাত্ক্ষণিক প্রকাশ ফুটে ওঠে ক্যানভাসে। শিল্পীদের ক্যানভাস যেন একেকটি নতুন কবিতার অবয়ব নিচ্ছিল। শিল্পী হামিদুজ্জামান খানের ক্যানভাসে নদীর ছবি, সাগরের ছবি। এবছর একুশে পদক পাওয়া শিল্পী জামাল আহমেদ আঁকলেন আদিবাসী রমণী, প্রকৃতি ও শান্তির প্রতীক পায়রার ছবি। তরুণ শিল্পী শাহানূর মামুন আঁকলেন গ্রীষ্মের রাঁধাচূড়া, বিড়াল কোলে নারী এবং নদী থেকে দেখা রাতের জীবন। সব কাজই জলরঙে। শিল্পী নগরবাসী বর্মণ চারকোল দিয়ে আঁকলেন নদী, নৌকা ও মাছ। বাংলার চিরায়ত প্রতীক। বরেণ্য শিল্পী চন্দ্র শেখর দে আঁকলেন নাগরিক জটিল জীবনের টানাপোড়েনের মাঝেও বেঁচে থাকে মানুষের ভালোবাসা। অথবা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে পরস্পরকে ভালোবাসার আকর্ষণ। পরম মমতায় নারী পুরুষ একে অপরকে জড়িয়ে ধরেই জীবনের মানে খুঁজে নেয়, আজও এই একুশ শতকের বাস্তবতায়।

শিল্পী হামিদুজ্জামান খানকে জিগ্যেস করি, সিলেটের প্রকৃতির মাঝে বসে ছবি আঁকছেন কিন্তু সিলেটের প্রকৃতি নেই কেন? থাকতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই- উত্তরে বললেন তিনি। পরে, আঁকবো। এখন যেটা ইচ্ছা করছে সেটা আঁকছি।