সরকার দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে : মঈন খান

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ২০:০৩
 
সরকার দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, আজকে সরকার এই দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও বিপক্ষের শক্তি বলে। এটা দলটির ঔপনিবেশিক চিন্তাধারা ফসল। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিএনপির জন্মই হয়নি, তারা কিভাবে স্বাধীনতা বিরোধী হয়? যে দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক, সে দলকে আওয়ামী লীগ কিভাবে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি বলে? ১৯৭৫ সালের ঘটনার সেই সাইকোলজিতে কেন তারা বিএনপিকে শত্রু হিসেবে ভাবে? এসবের মূলে আওয়ামী লীগের একটি সমস্যা রয়েছে, সেটি হীনমন্যতা।
 
আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ২১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ ও শহীদ জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 
 
সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম। সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজ আব্বাস প্রমুখ।
 
মঈন খান বলেন, যারা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, তারা মুক্তিযোদ্ধা। কিন্ত যারা পলায়নপর, ভীত, রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সীমারেখা পার হয়ে, লাফ দিয়ে অন্য একটি দেশে গিয়ে পড়েছিল কাপুরুষের মত তারা কি মুক্তিযোদ্ধা ছিল? এ প্রশ্ন আমাদের সাহস করে বলতে হবে।
 
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের হীনমন্যতাবোধের কারণ হল, তারা যখন দিনের বেলায় মিডিয়া টেলিভিশনে যাই বলুক না কেনো, রাতের গভীরে যখন চিন্তা করে যে, তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বীরের মতো সামনে না গিয়ে কাপুরুষের মত পালিয়ে গিয়েছিল। এটাই হচ্ছে তাদের হীনমন্যতাবোধ। সে কারণেই তারা বিএনপিকে সহ্য করতে পারে না। তিনি বলেন, তারা কেন এটা করছে? কারণ হচ্ছে, বিশ্বে যখন ঔপনিবেশিকতা বিস্তার করেছিল কয়েক শতাব্দী ধরে ঔপনিবেশিক শক্তিরা বিভিন্ন দেশে গিয়ে মানুষদের উপর খবরদারি করতো, তখন তারা একটি অস্ত্র ব্যবহার করতো, সে অস্ত্রের নাম ডিভাইড এন্ড রুল। অর্থাৎ এই বিভাজন। 
 
তারা সেখানকার জনগণকে দুটি-তিনটি ভাগে ভাগ করে দুর্বল করে দিত, যাতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঔপনিবেশিক শক্তিকে প্রতিহত করে স্বাধীনতা অর্জন না করতে পারে। আজকে দুঃখের বিষয় একটি স্বাধীন দেশের সরকার তারা তাদের কার্যক্রম দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা ওই ঔপনিবেশিক শক্তির প্রতিনিধি। তারা (সরকার) তাদের ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার জন্য সেই ডিভাইড এন্ড রুল অনুসরণ করছে।
 
ইত্তেফাক/কেকে